আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা জুড়ে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছেন জনতা উন্নয়ন পার্টির (জেইউপি) প্রধান হুমায়ুন কবীর। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে তাঁর হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের পর এবার ভোটপ্রচারে নয়া চমক দিতে চলেছেন তিনি। এবার আর শুধু সড়কপথ নয়, আকাশপথে হেলিকপ্টারে চড়ে প্রচার সারবেন এই হেভিওয়েট নেতা। তাঁর দাবি, যে বাম-কংগ্রেস বর্তমানে শূন্যে দাঁড়িয়ে আছে, তাঁর হাত ধরলে তারাই আগামী দিনে রাজ্যের শাসকদলে পরিণত হবে।
TV9 বাংলার এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, আগামী দু’মাস তিনি হেলিকপ্টারে করে নির্বাচনী প্রচার চালাবেন। শুধু নিজের দল নয়, জোট প্রার্থীদের হয়েও আকাশপথে প্রচার করবেন তিনি। এর জন্য বেলডাঙায় ইতিমধ্যেই হেলিপ্যাড তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তবে ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কপ্টার যাত্রার খরচ কংগ্রেস জোগালেও, ২০২৬-এ হুমায়ুনের হেলিকপ্টারের টাকা কে দিচ্ছেন, তা নিয়ে রহস্য বজায় রেখেছেন তিনি। কবীরের সংক্ষিপ্ত উত্তর, “যতই খোঁচান, দাতা কে সেটা এখনই বলব না।”
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছে হুমায়ুন ও মহম্মদ সেলিমের জোট নিয়ে। হুমায়ুন কবীর নিজেই জানিয়েছেন যে তিনি সেলিমকে মুর্শিদাবাদের একটি আসনে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছেন। এমনকি রানিনগর আসনে যেখানে তিনি নিজে দাঁড়িয়েছেন, সেলিম রাজি হলে সেই আসনটিও ছেড়ে দিতে প্রস্তুত তিনি। যদিও সেলিম এখনও জোটের বিষয়ে চূড়ান্ত সিলমোহর দেননি, তবে হুমায়ুন আশাবাদী যে আইএসএফ এবং বামেদের সঙ্গে জোট হলে ২০০৬-এর পুনরাবৃত্তি সম্ভব।
অন্যদিকে, সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর বিরূপ প্রতিক্রিয়া নিয়ে পাল্টাও দিয়েছেন হুমায়ুন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ২১-এর বিধানসভার ভরাডুবির পর মহম্মদ সেলিম বাস্তব বুঝেই নতুন জোটের দিকে পা বাড়াচ্ছেন। মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসির সঙ্গেও খুব শীঘ্রই বৈঠকে বসতে চলেছেন তিনি। ২০২৬-এর নির্বাচনে ১০০-র বেশি আসন পাওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে হুমায়ুন কবীর এখন বঙ্গ রাজনীতির মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছেন।





