সিপিএমের অন্দরে চরম বিপদ ঘণ্টা! বাংলায় কি তবে বামেদের শেষ সম্বলটুকুও ফুরিয়ে আসছে? জানুন কী আছে গোপন চিঠিতে!

সংগঠনের গভীরে ঘুণ ধরেছে বহু আগেই। তবে এবার রাজ্য সিপিএমের অন্দরে যে বিস্ফোরক তথ্য সামনে এল, তা রীতিমতো নজিরবিহীন ও অশনিসংকেত বটে! দলের সদ্যপ্রকাশিত অভ্যন্তরীণ এক নম্বর পার্টি চিঠির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের প্রায় সাড়ে চৌষট্টি শতাংশ পার্টি শাখাতেই নেই কোনো অক্সিলারি গ্রুপ বা এজি। শুধু তাই নয়, বুথ স্তরে সংগঠনের এই বেহাল দশার পাশাপাশি সদস্য সংগ্রহের চিত্রটিও অত্যন্ত উদ্বেগের। দলের মোট সদস্য সংখ্যার মধ্যে ৩০ বছরের কম বয়সি তরুণ প্রজন্মের হিসেব মাত্র ৪.৫৫ শতাংশ! অর্থাৎ, নতুন প্রজন্মকে রাজনীতির আঙিনায় টেনে আনার ক্ষেত্রে বামেরা যে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে, তা খোদ পার্টির অন্দরেই স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে।

নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন তুলে পার্টি চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পাহাড়ি জেলা দার্জিলিং বাদ দিলে বাংলার বাকি জেলাগুলিতে মহিলা সদস্যদের উপযুক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বহুক্ষেত্রেই তাঁদের নামমাত্র সদস্য হিসেবে রেখে দেওয়া হচ্ছে, যা সংগঠনের সার্বিক অগ্রগতির অন্তরায়। শুধু সংখ্যাতত্ত্বের সংকট নয়, দলের কর্মী ও নেতাদের আচরণ নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। আত্মপ্রচারের মোহ এবং একাংশের মধ্যে ‘অকমিউনিস্টসুলভ আচরণ’-এর প্রবণতা যেভাবে মাথাচাড়া দিচ্ছে, তাতে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে চিঠিতে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

এই চরম সাংগঠনিক শূন্যতা ও অবক্ষয় রুখতে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে রাজ্য নেতৃত্ব। আগামী তিন মাসের মধ্যে সমস্ত জেলা ও শাখা কমিটিকে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিয়ে বুথ স্তর থেকে সংগঠনকে চাঙ্গা করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে এই রাজনৈতিক শৃঙ্খলারক্ষা ও পুনর্গঠন কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।