টিভি থেকে নিখোঁজ, কিন্তু কোটি টাকার মালিক! ‘ম্যাড’ শোয়ের রবের বর্তমান জীবন দেখলে চোখ কপালে উঠবে!

নব্বইয়ের দশক বা দুই হাজারের শুরুর দিকের প্রজন্মের কাছে রবিবার মানেই টিভিতে একটি নির্দিষ্ট শোয়ের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা—‘ম্যাড’ (MAD)। পেপার ক্রাফট, বেস্ট আউট অফ ওয়েস্ট থেকে শুরু করে হরেক রকমের ‘ডু ইট ইয়োরসেলফ’ (DIY) প্রজেক্ট শিখিয়ে রাতারাতি ছোটদের আইকন হয়ে উঠেছিলেন ‘রব’ অর্থাৎ হারুন রবার্ট। প্রতি রবিবার তাঁর হাতের জাদুতে বুঁদ হয়ে থাকত ছোট থেকে বড়। কিন্তু সাফল্যের ঠিক পিক পয়েন্টে পৌঁছানোর পরেই হঠাৎ করে ছোটপর্দা এবং লাইমলাইট থেকে চিরতরে উধাও হয়ে যান তিনি। এখন ঠিক কোথায় রয়েছেন এবং কী করছেন সবার প্রিয় ‘রব’?

উচ্চবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া হারুন রবার্টের পরিবারে ডাক্তার হওয়ার কড়া নির্দেশ ছিল। তাঁর বাবা ছিলেন ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের কর্মী এবং দাদু কাজ করতেন আমেরিকান এমবেসিতে। পরিবারের ইচ্ছে রাখতে তাঁকে বাধ্য হয়ে নিট (NEET) পরীক্ষাতেও বসতে হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের কঠিন বেড়াজাল এড়িয়ে তাঁর মন পড়েছিল শিল্প ও কলার জগতে। পরিবারের অমতেই আর্ট কলেজে ভর্তি হন এবং দীর্ঘ সাধনা ও সংগ্রামের পর নিজের প্রতিভাকে প্রমাণ করেন। পরবর্তী সময়ে ‘ম্যাড’ শোয়ের অফার এলেও প্রথমে তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু পরে রাজি হয়ে ইতিহাস তৈরি করেন। যদিও সেই সময় শোটি যে কতটা জনপ্রিয় হয়েছিল, সে বিষয়ে রবের নিজেরই কোনো ধারণাই ছিল না।

‘ম্যাড’ শো শেষ হওয়ার পরেই মুম্বইয়ের ঝলমলে দুনিয়া এবং ব্যস্ততা ছেড়ে চিরকালের জন্য গোয়ায় পাড়ি দেন রবার্ট। অতিরিক্ত ভিড় ও প্রচারের আলো থেকে দূরে গোয়ার মুক্ত পরিবেশে শুরু হয় তাঁর নতুন জীবন। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন বড় ইভেন্ট এবং উৎসবের জন্য জমকালো আর্ট ইনস্টলেশন, পেবেল পেন্টিং এবং স্টোন কার্ভিংয়ের মতো অভিনব কাজ করে চলেছেন। রবের মতে, তাঁর বর্তমান জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো তিনি কোনো টেলিভিশন চ্যানেলের বা করপোরেট সংস্থার কাছে বাঁধা নন; নিজের শর্তে স্বাধীনভাবে শিল্পচর্চা করার আনন্দই আলাদা।

পর্দার আড়ালে চলে গেলেও শিল্প এবং ভক্তদের থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি হারুন রবার্ট। ২০১৪ সালে তিনি নিজের একটি ইউটিউব চ্যানেল ‘ম্যাড স্টাফ উইথ রব’ (Mad Stuff With Rob) চালু করেন, যেখান থেকে তাঁর উপার্জনের পরিধিও বেশ পোক্ত। আজও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে হাজার হাজার তরুণ প্রজন্মকে ক্রাফটিংয়ের পাঠ দিয়ে চলেছেন তিনি। ক্যামেরার পিছনের এই শান্ত অথচ সৃজনশীল জীবনই এখন রবের আসল ঠিকানা।