মুখ বা নাক ছাড়াই চলে শ্বাসপ্রশ্বাস! বিজ্ঞানের কোন চাঞ্চল্যকর রহস্য লুকিয়ে রয়েছে আরশোলার শরীরে?

রান্নাঘর বা বাথরুমের আলো জ্বালাতেই আরশোলা দেখার অভিজ্ঞতা কমবেশি সকলেরই রয়েছে। জুতোর বাড়ি খাওয়ার পরেও চোখের পলকে চোখের আড়াল হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে উসেইন বোল্টকেও টেক্কা দিতে পারে এই পতঙ্গটি। তবে আপনি কি জানেন, আরশোলা সম্পর্কে এমন এক চোখ কপালে তোলার মতো তথ্য রয়েছে, যা শুনলে স্রেফ তাজ্জব বনে যেতে হবে? মানুষের ক্ষেত্রে মাথা বা মস্তিষ্ক ছাড়া এক মুহূর্ত বেঁচে থাকার কল্পনাও করা যায় না, কিন্তু এই পতঙ্গের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আলাদা।
বিজ্ঞান বলছে, একটি আরশোলার মাথা কেটে ফেলে দিলেও সেটি অনায়াসে আরও অন্তত এক সপ্তাহ দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে। এর মূল কারণ লুকিয়ে রয়েছে এদের শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়ায়। আরশোলা শ্বাস নেওয়ার জন্য কখনও নিজেদের মুখ বা নাকের ওপর নির্ভর করে না। এদের পুরো শরীরের দু’পাশে সারি সারি ছোট ছোট ছিদ্র বা ‘স্পিরাকল’ থাকে। এই বিশেষ ছিদ্রগুলোর মাধ্যমেই বাতাস সরাসরি শরীরের একেবারে কোণায় কোণায় পৌঁছে যায়। ফলস্বরূপ, মাথা কেটে ফেলার পরও এদের শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকে এবং শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যুর কোনো সম্ভাবনাই থাকে না।
শুধু তাই নয়, এদের রক্ত সংবহনতন্ত্রও মানুষের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং এটি একটি মুক্ত সংবহনতন্ত্র হিসেবে কাজ করে। মানুষের মতো উচ্চচাপে রক্ত চলাচল না করায় মাথা কাটা গেলেও ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটে বেরোয় না, বরং কাটা জায়গায় দ্রুত রক্ত জমাট বেঁধে যায়। তাছাড়া, এদের স্নায়ুতন্ত্র কেবল মস্তিষ্কের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং সারা শরীরে ‘গ্যাংলিয়া’ নামক স্নায়ুকোষের গুচ্ছ ছড়িয়ে থাকে, যা প্রাথমিক নড়াচড়া স্বাধীনভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। তবে মাথা না থাকায় মুখ দিয়ে খাবার বা জল খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত জলের অভাবেই তাদের মৃত্যু ঘটে। এছাড়া জলের নিচেও এরা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিশ্বাস আটকে রাখতে পারে। প্রকৃতির এই অনন্য সৃষ্টি আরশোলার বেঁচে থাকার এই অদ্ভুত ক্ষমতা সত্যিই বিজ্ঞানকে আজও অবাক করে।