৮১তম বর্ষে পা দিয়েই চমক ভবানীপুরের ঐতিহ্যবাহী পুজোয়! ‘পদ্মদিঘির ঘাটে’ থিমের মাঝে হঠাৎ কেন এই বড় রদবদল?

দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম কুলিন এবং রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত ভবানীপুর। আর এই ভবানীপুরেরই অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও হেভিওয়েট পুজো হিসেবে বিশেষ পরিচিতি রয়েছে চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির। আগামী দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে এই পুজো কমিটি নিয়ে এবার এক অভাবনীয় ও চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের খবর সামনে এসেছে। পুজো শুরুর ঠিক প্রাক্কালে কমিটি পরিচালনার মূল দায়িত্বে এক বড়সড় রদবদল ঘটিয়েছে আয়োজকরা। আর এই আকস্মিক রদবদলকে ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতি ও স্থানীয় মহলে তীব্র জল্পনা ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রভাবশালী প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসুকে চক্রবেড়িয়া সর্বজনীনের কার্যকরী সভাপতির পদ থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে বা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর পরিবর্তে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পদের ব্যাটন তুলে দেওয়া হয়েছে এলাকার পরিচিত বিজেপি নেতা তিমির সরকারের হাতে। একটি স্থানীয় সর্বজনীন পুজো কমিটিতে এই ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং শাসক দলের প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিকে সরিয়ে বিরোধী শিবিরের নেতার হাতে দায়িত্ব অর্পণ করার ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাধারণত পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণের গভীর যোগ থাকে, তাই এই পরিবর্তনটি নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

এদিকে সমস্ত রাজনৈতিক জল্পনা ও বিতর্ককে দূরে সরিয়ে এবছর নিজেদের ৮১তম বর্ষে পদার্পণ করতে চলেছে চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন। প্রতিবারের মতো এবারও দর্শকদের নজর কাড়তে এক অভিনব ও মনমুগ্ধকর থিম বেছে নেওয়া হয়েছে। পুজো কমিটির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, এবছরের তাদের মূল থিম হতে চলেছে ‘পদ্মদিঘির ঘাটে’। গ্রাম বাংলার চিরায়ত সৌন্দর্য, স্নিগ্ধ পরিবেশ এবং ঐতিহ্যকে আধুনিক মণ্ডপসজ্জার মধ্য দিয়ে কলকাতার বুকে ফুটিয়ে তোলাই এই থিমের মূল উদ্দেশ্য। পুজো উদ্যোক্তারা আশা করছেন, থিমের এই গ্রামীণ আবহ এবং নান্দনিক রূপায়ণ দর্শনার্থীদের মনে গভীর রেখাপাত করবে।

রাজনৈতিক রদবদলের এই আকস্মিক ধাক্কা সত্ত্বেও পুজোর প্রস্তুতি এবং থিম রূপায়ণের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলেছে। নতুন কার্যকরী সভাপতি তিমির সরকারের নেতৃত্বে ৮১তম বর্ষের এই পুজোকে সফল করে তুলতে এখন থেকেই রাতদিন এক করে কাজ করে চলেছেন উদ্যোক্তারা ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ভবানীপুরের মাটিতে ঐতিহ্যমণ্ডিত এই পুজো শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বিতর্কের মেঘ কাটিয়ে কতটা জমজমাট হয়ে ওঠে এবং দর্শনার্থীদের মন জয় করতে পারে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা শহর।