সিনেমার দৃশ্য নয়, বাস্তবেই আসছে রোবট আর্মি! রাশিয়ার বিরুদ্ধে যন্ত্রমানব নামাচ্ছে ইউক্রেন!

রক্তমাংসের সেনার বদলে যুদ্ধক্ষেত্রে এবার রোবট বাহিনী নামাতে চলেছে ইউক্রেন। রাশিয়ার বিরুদ্ধে জোরাল আঘাত হানতে এবং সম্মুখ সমরে মানব জীবনের প্রাণহানি কমাতে সরাসরি যন্ত্রমানবকে যুদ্ধক্ষেত্রে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিয়েভ। ইউক্রেনের প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মিখাইলো ফেডরোভ শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘আর্মি অফ রোবটস’ (Army of Robots)-এর একঝলক গোটা পৃথিবীর সামনে তুলে ধরেছেন। হলিউডের কোনো সায়েন্স ফিকশন সিনেমাকে হার মানানো এই রোবট বাহিনীর কার্যকারিতা দেখে ইতিমধ্যেই তাজ্জব বনে গেছেন বিশ্ববাসী।

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে মিখাইলো লিখেছেন, “আমরা রোবট বাহিনী নামাচ্ছি। ২০২২ সালে ড্রোন বাহিনীর সূচনা করেছিলাম। আজ যুদ্ধক্ষেত্রে হামলার ৯৫ শতাংশই ড্রোন দ্বারা চালিত হয় এবং ইউক্রেনে ৭০০-র বেশি ড্রোন বা ইউএভি (UAV) কারখানা রয়েছে। প্রযুক্তির হাত ধরে এবার যুদ্ধকে সম্পূর্ণ রোবটচালিত করে তোলার সময় এসে গেছে।”

রোবট বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য জীবনরক্ষা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) মডেল নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে নানা বিতর্ক চলছে, ঠিক সেই সময়ে ইউক্রেনের এই পদক্ষেপকে ভবিষ্যতের যুদ্ধের বড় মোড় ঘোরালো ঘটনা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে মিখাইলোর সাফ কথা, এই প্রজেক্টের মূল উদ্দেশ্য জীবন রক্ষা করা। বিপজ্জনক অভিযান— যেমন আহতদের উদ্ধার করা, অস্ত্রশস্ত্র ও রসদ পৌঁছে দেওয়া, মাইন বসানো বা অপসারণ করা, নজরদারি চালানো কিংবা শত্রুর ওপর অতর্কিত আক্রমণ হানার কাজে মানুষের বদলে রোবট ব্যবহার করা হবে। এটি কোনো একটি নির্দিষ্ট কোম্পানি নয়, বরং একটি প্রযুক্তিগত বাস্তুতন্ত্র।

ভাইরাল হওয়া এক মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, কন্ট্রোল রুম থেকে সেনা আধিকারিকরা যুদ্ধের নিখুঁত পরিচালনা করছেন। অন্য দিকে, যুদ্ধক্ষেত্রে রিমোট নিয়ন্ত্রিত রোবটগুলি নির্ভুল নিশানায় আক্রমণ চালাচ্ছে এবং কামান চালিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই ভিডিও ইতিমধ্যেই ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছে।

উল্লেখ্য, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী থাকাকালীন ২০২২ সালে মিখাইলোর হাত ধরেই দেশটিতে ড্রোন বাহিনীর সফল প্রবর্তন হয়েছিল। পরবর্তীতে পদ থেকে সরে গেলেও তাঁর এই নতুন ‘রোবট আর্মি’ প্রজেক্ট ফের তাঁকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। যুদ্ধজয়ের নতুন সমীকরণ তৈরি করতে ইউক্রেন যে প্রযুক্তির ওপর পুরোপুরি ভরসা রাখছে, এই পদক্ষেপ তারই এক উজ্জ্বল নিদর্শন।