উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে ভরদুপুরে এক রোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী থাকলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুষ্কৃতীর হাতে ধারালো ছুরি ও আগ্নেয়াস্ত্র দেখে নিজের প্রাণের পরোয়া না করে লড়াই চালিয়ে গেলেন এক ভারতীয় সেনা জওয়ান। তাঁর অদম্য সাহসিকতার জেরেই শেষ পর্যন্ত কাবু হলো ওই সশস্ত্র যুবক। জওয়ানের নাম সুমিত ঘোষ।
ঠিক কী ঘটেছিল? স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার দুপুরে একটি যাত্রীবাহী অটোতে করে যাচ্ছিলেন সুমিত বাবু। ওই অটোতেই সহযাত্রী হিসেবে বসে ছিল এক সন্দেহভাজন যুবক। হঠাতই জওয়ান লক্ষ্য করেন, ওই যুবকের কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ধারালো বড় ছুরি রয়েছে। জনবহুল এলাকায় বড় কোনো অপরাধ ঘটানোর উদ্দেশ্যেই সে এসেছে বুঝতে পেরে সতর্ক হন সুমিত। সুযোগ বুঝতেই তিনি ওই সশস্ত্র দুষ্কৃতীকে জাপটে ধরেন। ধস্তাধস্তি চলাকালীন যুবকটি পালানোর চেষ্টা করলে সুমিত বাবু চলন্ত অটো থেকেই তাকে নিয়ে রাস্তায় ঝাঁপিয়ে পড়েন।
সাহসিকতাকে কুর্নিশ: রাস্তায় পড়ার পরেও দুষ্কৃতীকে ছেড়ে দেননি সুমিত। তাঁর চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হাবড়া থানার পুলিশ। পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়েছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি পিস্তল ও ছুরি। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, ওই যুবক হাবড়ার মতো ব্যস্ত এলাকায় কেন এসেছিল এবং তার লক্ষ্য কে ছিল।
ছুটি কাটাতে বাড়ি এসেও সেনার কর্তব্য ভোলেননি সুমিত। তাঁর এই অসম সাহসকে কুর্নিশ জানিয়েছেন গোটা হাবড়াবাসী। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ালেও পুলিশের তৎপরতায় বড় কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।