‘সিদ্ধান্ত হতে হবে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতে!’ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এক্তিয়ার নিয়ে বড় মন্তব্য শীর্ষ আদালতের

ভারতের নির্বাচন কমিশনে অন্য দুই কমিশনারের মতামত না নিয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। এই গুরুতর অভিযোগ তুলে তাঁকে সাসপেন্ড করার দাবি জানিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় সোমবার সুপ্রিম কোর্ট তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বিশেষ বেঞ্চ এই মুহূর্তে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিতে সরাসরি অস্বীকার করলেও, নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিক নোটিস পাঠিয়ে বিস্তারিত জবাব তলব করেছে।
আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া জবাব খতিয়ে দেখার পরই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে। যদি পর্যালোচনায় দেখা যায় যে সত্যিই প্রধান নির্বাচন কমিশনার অন্য কমিশনারদের মতামত বা সম্মতি ছাড়াই কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তবে সেই সিদ্ধান্তগুলি পুনর্বিবেচনা কিংবা বাতিল করার পদক্ষেপ করা হবে। বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এই মুহূর্তে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ কার্যক্রম বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR)-এর ক্ষেত্রে নিয়মনীতি এবং যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া না মানার অভিযোগে এই আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, বিগত ১০ মাসে ভোটার তালিকা এবং প্রযুক্তিগত বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী অন্তত ১৪টি ক্ষেত্রে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশন সেই মতপার্থক্য অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, খসড়া পর্যায়ে প্রশ্ন তোলা বা মতামত দেওয়া একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং এসআইআর-এর সমস্ত সিদ্ধান্তই সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। এখন শীর্ষ আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপে কমিশনের অন্দরের এই ক্ষমতার লড়াই কোন মোড় নেয়, সেটাই দেখার।