রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ফের একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তুলোধনা করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবার তাঁর নিশানায় সরাসরি স্কুলের পাঠ্যবই। শুভেন্দুর দাবি, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেলবন্দি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম সিঙ্গুর আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পাঠ্যবইয়ে পড়ানো হচ্ছে, যা বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ‘লজ্জাজনক’।
শুভেন্দুর বিস্ফোরক অভিযোগ: শনিবার একটি জনসভা থেকে বিরোধী দলনেতা একটি নির্দিষ্ট পাঠ্যবইয়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি অভিযোগ করেন:
-
সিঙ্গুর আন্দোলনের ইতিহাস পড়াতে গিয়ে সেখানে ‘বীর’ হিসেবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
-
যিনি বর্তমানে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির দায়ে জেলবন্দি, তাঁর জীবনী বা কৃতিত্ব পড়ানো ছাত্রছাত্রীদের বিপথে চালিত করার নামান্তর।
-
শুভেন্দুর কড়া মন্তব্য, “এটা শিক্ষা নয়, এটা পরিকল্পিত অশিক্ষা। বাংলার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মিথ্যা ইতিহাস গেলানো হচ্ছে।”
‘অশিক্ষা’র রাজত্ব নিয়ে তোপ: শিক্ষা দপ্তরের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, এই রাজ্যে যোগ্য শিক্ষকরা রাজপথে ধরনা দিচ্ছেন, আর অযোগ্যদের মহিমান্বিত করা হচ্ছে। তাঁর মতে, পাঠ্যবই থেকে অবিলম্বে এই ধরণের বিতর্কিত অংশ বাদ দেওয়া উচিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যার বাড়িতে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হলো, তিনি কীভাবে শিশুদের আদর্শ হতে পারেন?”
তৃণমূলের পাল্টা জবাব: শুভেন্দুর এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ শাসক দল। তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিঙ্গুর আন্দোলন একটি ঐতিহাসিক ঘটনা এবং তাতে তৎকালীন নেতৃত্বের নাম থাকাটা স্বাভাবিক। এর সঙ্গে দুর্নীতির মামলার কোনো সম্পর্ক নেই। বিজেপি কেবল প্রচারের আলোয় আসতেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটারদের বিশেষ করে শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে সেন্টিমেন্ট তৈরি করতেই শুভেন্দু এই ইস্যুকে হাতিয়ার করেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।