সিইসি-র পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি! জন্তর মন্তরে এনএসইউআই-এর বিক্ষোভে ধুন্ধুমার, আটক অর্ধশতাধিক

ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান জাতীয় বিতর্কের মধ্যে রাজধানী দিল্লিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গত ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীতে দিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া প্রতিবাদের রেশ কাটতে না কাটতেই, কংগ্রেস দলের ছাত্র সংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (এনএসইউআই)-এর উদ্যোগে রাজধানীতে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এনএসইউআই-এর জাতীয় সভাপতি বিনোদ জাখরের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি তোলা হয়েছে।
সংগঠনের নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী নয়াদিল্লির ৫ রাইসিনা রোডে অবস্থিত এনএসইউআই সদর দপ্তর থেকে এই প্রতীকী ও গঠনমূলক প্রতিবাদ শুরু হয়। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন বিক্ষোভকারীরা মিছিল করে যন্তর মন্তরের দিকে এগোতে চান। পুলিশ অশোকা রোডে তাঁদের পথ আটকে দেয় এবং নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলে গোটা এলাকা। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। বিরোধী দলের নেতা, নাগরিক সমাজের কর্মী এবং ছাত্র-যুব সংগঠনের হাজার হাজার সদস্যের উপস্থিতিতে পুলিশ প্রায় ৫০০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে এবং ১১০ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে।
বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, “দায়িত্বে থাকা পুলিশ” লেখা বড় বড় ব্যক্তিগত বাসে করে পুরুষ ও নারীদের টেনেহিঁচড়ে এবং ধাক্কা দিতে দিতে জোরপূর্বক তোলা হয়। এমনকি নারী পুলিশকর্মীদের দ্বারা মহিলা বিক্ষোভকারীদের চুল ও পা ধরে টেনে আটক করার বাসে তোলার মর্মান্তিক দৃশ্য সামনে এসেছে। এক পুরুষ বিক্ষোভকারীকে পুলিশ কর্মকর্তার মাথা চেপে ধরে বাসে ঠেলে তোলার ছবিও ভাইরাল হয়েছে। এই চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে এক নারী সাংবাদিকও হেনস্থার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সবমিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন বর্তমানে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।