‘সাহস হয়নি, তাই চুপ ছিলাম!’ ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ নিয়ে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি ফিরহাদের

তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত মুখ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী হিসেবে যিনি প্রতি বছর ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চে উজ্জ্বল উপস্থিতিতে থাকতেন, সেই ফিরহাদ হাকিমই এখন তৃণমূলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন। ২০২৬-এর রাজনৈতিক পালাবদলে শিবির বদল করা ফিরহাদ হাকিমের সাম্প্রতিক মন্তব্যে কার্যত তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।

শহিদ স্মরণ না উৎসব? প্রশ্ন তুললেন ফিরহাদ

নিজের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ফিরহাদ দাবি করেন, ২১ জুলাইয়ের মূল লক্ষ্য ছিল ১৯৯৩ সালে নিহত তরুণদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আবেগ ফিকে হয়ে তা এক প্রকার ‘রাজনৈতিক উৎসবে’ পরিণত হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। ফিরহাদের কথায়, শহিদ দিবসের আবহে এই উৎসবমুখর পরিবেশ দলের অনেক নেতার কাছেই অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছিল।

‘সাহস হয়নি, তাই বলতে পারিনি’

দলের অভ্যন্তরীণ অস্বস্তির কথা বলতে গিয়ে ফিরহাদ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “সাহস হয়নি, তাই বলতে পারিনি।” তাঁর দাবি, শুধু তিনি একা নন, দলের ভেতরে এমন অনেক নেতাই ছিলেন যারা ব্যক্তিগতভাবে এই উদযাপনের ধরনের সঙ্গে একমত ছিলেন না। কিন্তু দলের কড়া শৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার চাপে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি।

স্মৃতিতে সেই ‘মাইক কাড়ার’ অপমান

শুধু নীতিগত বিতর্ক নয়, ব্যক্তিগত ক্ষোভের কথাও উঠে এসেছে তাঁর বয়ানে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রসঙ্গ টেনে ফিরহাদ পুরনো একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, অতীতে ব্রিগেডের একটি জনসভায় তাঁর হাত থেকে মাইক কেড়ে নেওয়ার ঘটনায় তিনি চরম অপমানিত বোধ করেছিলেন। সেই সময়ের দমবন্ধ করা পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিয়েই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, তৃণমূলের অন্দরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কতটা ছিল।

রাজনৈতিক মহলে শোরগোল

ফিরহাদ হাকিমের এই বক্তব্য নতুন করে তৃণমূলের অন্দরের অস্থিরতাকে সামনে নিয়ে এল। বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর যেভাবে তিনি ধারাবাহিকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন, তা আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।