হুগলির আরামবাগে রয়েছে এক প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী কালীপুজো— তিরোল গ্রামের ক্ষ্যাপা কালী মায়ের পুজো। প্রায় ৫০০ বছর ধরে এই পুজো চলে আসছে। এখানে মা মূলত সিদ্ধেশ্বরী রূপে অধিষ্ঠিত হলেও, ভক্তদের কাছে তিনি ক্ষ্যাপা কালী নামেই পরিচিত।
ক্ষ্যাপা কালী নামে পরিচিতির কারণ:
স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস, ক্ষ্যাপা কালী মায়ের কাছে এসে মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীরা সুস্থ হয়ে ওঠেন। এই অলৌকিক বিশ্বাসে ভর করেই সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে, এমনকি বাংলাদেশ থেকেও বহু ভক্তরা এই মন্দিরে মায়ের দর্শন করতে আসেন।
লোহার বালা: মানুষের বিশ্বাস, এই মন্দিরে এসে মায়ের লোহার বালা পরলে মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীরা আরোগ্য লাভ করেন। এই কারণেই সিদ্ধেশ্বরী মা এখানে ক্ষ্যাপা কালী নামে পরিচিত।
রীতি: কোনো মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীকে মায়ের মন্দিরের পাশের পুকুরে স্নান করিয়ে তার সুস্থতা কামনায় মানত করে পুজো করা হয়। এরপর তাকে মায়ের লোহার বালা পরানো হয়। এক বছর পর সেই বালা মন্দিরে এসে খুলে দেওয়ার রীতি প্রচলিত আছে।
সারদা মায়ের ঘটনার সঙ্গে সংযোগ:
কথিত আছে, একসময় সারদা মায়ের বৌদি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছিলেন। তাঁকে এই ক্ষ্যাপা কালীর কাছে আনা হয়েছিল এবং দেবীর আশীর্বাদেই নাকি তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন।
সারাবছর এই মন্দিরে মায়ের নিত্য পুজো হলেও, দীপান্বিতা অমাবস্যায় বিশেষ পুজো হয়। সেদিন গভীর রাত অবধি ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। বর্তমানে আরামবাগের তিরোল গ্রামের ক্ষ্যাপা কালীর মাহাত্ম্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।