সারদা চিটফান্ড দুর্নীতির তদন্তে আজ ঐতিহাসিক নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার এক মামলার শুনানিতে বিচারপতি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাজ্য সরকার গঠিত জাস্টিস শ্যামল সেন কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট আর গোপন রাখা যাবে না। দীর্ঘদিন ধরে এই রিপোর্ট প্রকাশের দাবিতে সরব হয়েছিলেন প্রতারিত আমানতকারীরা। আদালতের এই নির্দেশ সেই দাবিতেই সিলমোহর দিল।
২০১৩ সালে সারদা কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর রাজ্য সরকার আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর পথ খুঁজতে জাস্টিস শ্যামল সেনের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করেছিল। ২০১৪ সালে কমিশনের মেয়াদ শেষ হলেও সেই রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা পড়েছিল, কিন্তু তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়নি। এদিন হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, এই রিপোর্টে কী কী পর্যবেক্ষণ ছিল, কত টাকা বিলি করা হয়েছে এবং কাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—তা সাধারণ মানুষের জানার অধিকার রয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই রিপোর্ট প্রকাশিত হলে সারদা কাণ্ডের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম নতুন করে সামনে আসতে পারে। বিশেষ করে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই রিপোর্ট প্রকাশ শাসকদলের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। অন্যদিকে, আমানতকারীরা আশা করছেন যে রিপোর্টের তথ্য হাতে পেলে আইনি লড়াই আরও শক্তিশালী হবে এবং আটকে থাকা বাকি টাকা উদ্ধারের পথ প্রশস্ত হবে।