সামান্য জল ফেলা নিয়ে বিবাদ গড়াল খুনে! নোদাখালিতে বাঁশের আঘাতে প্রৌঢ়ের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার চার!

বাড়ির জানালায় জল ফেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দুই পরিবারের মধ্যে চলা দীর্ঘকালীন বিরোধ শেষ পর্যন্ত এক চরম ও মর্মান্তিক রূপ নিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নোদাখালি থানার অন্তর্গত বিল্লাপুর চোখ মৌখালী এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বচসার জেরে প্রতিবেশী যুবকদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫১ বছর বয়সি এক প্রৌঢ়, যার নাম শেখ আইয়ুব। এই আকস্মিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জেরে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসার পাশাপাশি চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নিহত প্রৌঢ়ের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁদের বাড়ির জানালা দিয়ে জল ফেলাকে কেন্দ্র করে পাশের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে বিরোধ ও তীব্র কথা কাটাকাটি চলছিল। ঘটনার দিন সেই বচসা চরমে পৌঁছালে অভিযুক্ত চার-পাঁচজন ব্যক্তি আচমকাই লাঠিসোঁটা ও বাঁশ নিয়ে তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়। দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তদের মধ্যে একজন শেখ আইয়ুবকে সজোরে বুকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। অভিযোগ, এরপর তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে বাঁশ দিয়ে এলোপাথাড়ি ও নির্মমভাবে মারধর করা হয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিল্লাপুর ফাঁড়ির পুলিশ এবং ডিএসপি পদমর্যাদার আধিকারিকরা। শোকার্ত পরিবারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নোদাখালি থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ করে ইতিমধ্যেই এই হামলায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে। বর্তমানে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পুরো ঘটনাটির নেপথ্যে অন্য কোনো পূর্বশত্রুতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশদ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।