সাবধান! ২০৩৭-এ অবসর নিচ্ছে INS বিক্রমাদিত্য, নৌবাহিনীর সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ; কী হবে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তার?

ভারতীয় নৌবাহিনীর সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিক্রমাদিত্য (INS Vikramaditya) ২০৩৭ সালে তার পরিষেবা জীবন শেষ করে অবসর গ্রহণ করতে চলেছে। নৌবাহিনীর শক্তির এই মূল স্তম্ভটির অবসর গ্রহণের তারিখ ঘনিয়ে আসায় ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ, ততদিন পর্যন্ত যদি দেশের তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিশাল-এর নির্মাণ শেষ না হয়, তাহলে নৌবাহিনীর কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৩৭ সালে বিক্রমাদিত্যের অবসরের অর্থ হল, তখন অপারেশনাল থাকবে শুধুমাত্র একটি বাহক, আইএনএস বিক্রান্ত। নৌ-কৌশলবিদরা দীর্ঘদিন ধরে চীন এবং পাকিস্তানের সাথে সামুদ্রিক সীমান্তে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে কমপক্ষে দুটি কার্যকরী রণতরী রাখার ওপর জোর দিয়ে এসেছেন। এই পরিস্থিতিতে বিক্রমাদিত্যর অবসর নৌ-শক্তিতে বিশাল শূন্যতা তৈরি করতে পারে।
বিক্রমাদিত্যের চলে যাওয়ার প্রভাব
রাশিয়া থেকে কেনা এই বিশাল জাহাজটি মিগ-২৯কে যুদ্ধবিমান এবং অন্যান্য হেলিকপ্টার বহন করে, যা এটিকে সমুদ্রের মাঝখানে একটি ভাসমান বিমানঘাঁটিতে পরিণত করে। পশ্চিম এবং পূর্ব উভয় সমুদ্র সীমান্তে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে বিক্রমাদিত্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই রণতরী অবসর নিলে ভারতীয় নৌ-শক্তিতে যে শূন্যতা তৈরি হবে, তা ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা কৌশলকে দুর্বল করে দিতে পারে।
নৌবাহিনীর সামনে দুটি বিকল্প
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নৌবাহিনী এখন দুটি বিকল্প নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তের দাবি জানাচ্ছে:
১. আইএনএস বিশাল (IAC-2)-এর নির্মাণ দ্রুত শেষ করা: নৌবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী আইএনএস বিশাল তৈরির অনুমতি চাইছে। ২০৩৭ সালের মধ্যে নতুন ক্যারিয়ার প্রস্তুত করতে পারলেই এই ঘাটতি মেটানো সম্ভব।
২. বিক্রমাদিত্যের পরিষেবা জীবন বাড়ানো: দ্বিতীয় বিকল্পটি হল বিক্রমাদিত্যকে একটি বড় এবং ব্যয়বহুল আপগ্রেডেশনের মাধ্যমে ২০৩৭ সালের পরেও পরিষেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা। তবে এই প্রক্রিয়ায় জাহাজটিকে বহু বছরের জন্য পরিষেবা থেকে সরিয়ে রাখতে হবে।
নৌ-কৌশলবিদরা দ্রুত সরকারকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।