সোশ্যাল মিডিয়ায় কী লিখবেন আর কী লিখবেন না—তা নিয়ে এবার কলকাতা পুলিশ কর্মীদের জন্য এল একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা। বর্তমান ডিজিটাল যুগে পুলিশ কর্মীদের অনলাইন আচরণ এবং পোস্ট নিয়ে একাধিকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই বিতর্কে ইতি টানতেই লালবাজারের পক্ষ থেকে এই বিশেষ গাইডলাইন বা নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এখন থেকে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে যেকোনো কিছু পোস্ট করার আগে লালবাজারের এই নিয়মগুলি মাথায় রাখতে হবে পুলিশ কর্মীদের।
কী থাকছে নতুন নির্দেশিকায়? কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কোনো পুলিশ কর্মী ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এমন কিছু পোস্ট করতে পারবেন না যা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে। বিশেষ করে ডিউটি চলাকালীন রিলস ভিডিও বানানো বা উর্দিতে থাকাকালীন অপ্রাসঙ্গিক ছবি পোস্ট করার ক্ষেত্রে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কোনো তদন্তাধীন বিষয় বা স্পর্শকাতর মামলা নিয়ে কোনোভাবেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ খোলা যাবে না। এমনকি সরকারি নথিপত্র বা গোপন তথ্যের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে।
কেন এই কড়া সিদ্ধান্ত? বিগত কয়েক মাসে দেখা গিয়েছে, বহু পুলিশ কর্মী কর্মস্থলে থাকাকালীন রিলস তৈরি করছেন বা টিকটক ধাঁচের ভিডিও বানাচ্ছেন। এতে পুলিশের গাম্ভীর্য নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছে সদর দফতর। এছাড়াও, অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করতে গিয়ে রাজনৈতিক বা বিতর্কিত মন্তব্য করে ফেলছেন কর্মীরা, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। লালবাজারের স্পষ্ট বার্তা—ব্যক্তিগত মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও, পুলিশের মতো একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর সদস্য হিসেবে তাঁদের কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলতেই হবে।
অমান্য করলে শাস্তির খাঁড়া নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, প্রতিটি থানার ওসি এবং বিভাগীয় কর্তাদের এই বিষয়ে নজর রাখতে হবে। কোনো কর্মী যদি নির্দেশিকা লঙ্ঘন করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত এবং কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাইবার সেলকেও সক্রিয় রাখা হয়েছে যাতে পুলিশ কর্মীদের অনলাইন অ্যাক্টিভিটির ওপর নজরদারি চালানো যায়। এই নতুন নির্দেশিকা প্রকাশের পর পুলিশ মহলে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।