সাপের কামড়ে রোজ ঝরছে তাজা প্রাণ! ভারত-ডেনমার্ক বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী আবিষ্কারে বাঁচবে লক্ষ মানুষের জীবন!

ভারতে সাপের কামড় বা স্নেকবাইট বর্তমানে একটি অন্যতম মারাত্মক এবং অবহেলিত জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন পরিসংখ্যান এবং গবেষণামূলক রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, আমাদের দেশে প্রতি বছর প্রায় ৫০,০০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে শুধুমাত্র সাপের কামড়ের কারণে, যা গোটা বিশ্বজুড়ে সর্বোচ্চ। বর্তমানে প্রচলিত যে সমস্ত অ্যান্টিভেনম চিকিৎসা প্রচলিত রয়েছে, সেগুলির বেশ কিছু অন্তর্নিহিত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উৎপাদন প্রক্রিয়ার সময় ব্যাচ-টু-ব্যাচ পার্থক্য, প্রয়োগের ফলে নানা গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং বিভিন্ন প্রজাতির সাপের বিষের বিরুদ্ধে সীমিত কার্যকারিতা।
এই জটিল সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ভারত এবং ডেনমার্কের বিশিষ্ট বিজ্ঞানীদের একটি যৌথ গবেষণা দল পরবর্তী প্রজন্মের সর্বাধুনিক অ্যান্টিভেনম তৈরির ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গবেষণার অংশ হিসেবে বিজ্ঞানীরা উট পরিবার বা ক্যামেলিজ গোত্রের প্রাণী, বিশেষ করে আলপাকা এবং লামার মতো প্রাণীদের ভারতের বিভিন্ন প্রজাতির অত্যন্ত বিষাক্ত কোব্রা সাপের বিষের সংস্পর্শে নিয়ে আসেন। এর ফলে ওই প্রাণীদের রক্তে এক বিশেষ ধরনের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, যা বিষের ভেতরে থাকা মারাত্মক টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদানগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে সেগুলোকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করার অসাধারণ ক্ষমতা রাখে।
পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা এই বিশেষ অ্যান্টিবডিগুলোকে সফলভাবে পৃথক করেন এবং পরীক্ষাগারে মাইক্রোবিয়াল সিস্টেমের সাহায্য নিয়ে অত্যন্ত কম খরচে বড় পরিসরে এগুলো উৎপাদনের পথ উন্মুক্ত করেন। এই নতুন প্রযুক্তির সবচেয়ে আকর্ষক ও কার্যকরী দিক হলো ‘ন্যানোবডি ককটেল’। বিজ্ঞানীরা পাঁচটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র অ্যান্টিবডি ফ্র্যাগমেন্ট বা নैनোবডিকে একত্রিত করে এই বিশেষ ককটেল তৈরি করেছেন। পরীক্ষামূলক প্রয়োগে দেখা গেছে যে এই ককটেলটি বিভিন্ন কোব্রা প্রজাতির বিষের আক্রমণ থেকে জীবন বাঁচাতে অবিশ্বাস্য রকমের সফল। গবেষণাগারে ইঁদুরের ওপর এই ককটেল প্রয়োগ করে অভাবনীয় সাফল্য মিলেছে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, সাপের বিষ প্রয়োগের ৩০ মিনিট পরেও যদি এই ন্যানোবডি ককটেল দেওয়া হয়, তবে ইঁদুরগুলো মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসে। পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা স্নায়বিক দুর্বলতায় ভোগা ইঁদুরগুলোও সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে গেছে।
প্রচলিত পদ্ধতিতে ঘোড়ার শরীরে সাপের বিষ প্রবেশ করিয়ে অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয়, যা ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু এই নতুন ন্যানোবডি প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী উপায়ে অ্যান্টিভেনম উৎপাদন করা সম্ভব হবে।