সান্দাকফু ভ্রমণে ফের মৃত্যু! হৃদরোগে আক্রান্ত যাদবপুরের ৭২ বছরের বৃদ্ধা, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে চরম প্রশ্ন

সান্দাকফু বেড়াতে গিয়ে ফের এক পর্যটকের মৃত্যু হল। সোমবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন যাদবপুরের বাসিন্দা অনিন্দিতা গঙ্গোপাধ্যায় (৭২)। এই ঘটনা একদিকে যেমন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে, তেমনই সান্দাকফুর মতো উচ্চতায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের শারীরিক পরীক্ষা বা বয়স বিবেচনার বিষয়ে জিটিএ (গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মানেভঞ্জন থেকে হাসপাতাল, শেষ রক্ষা হল না
পুলিশ ও জিটিএ সূত্রে খবর, চারদিন আগে যাদবপুরের অনিন্দিতা গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর বোন অজন্তা বন্দ্যোপাধ্যায় দার্জিলিং বেড়াতে যান। দু’জনেই প্রবীণ নাগরিক। লেপচাজগত ও টুমলিংয়ে দু’রাত কাটিয়ে সোমবার তাঁরা মানেভঞ্জন হয়ে সান্দাকফু পৌঁছন। সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই অনিন্দিতা দেবী শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে অসুস্থ বোধ করেন।
খবর পেয়ে মানেভঞ্জন ল্যান্ড রোভার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেও তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। ফলে ল্যান্ড রোভার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা তাঁকে সুখিয়াপোখরি ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য দার্জিলিং সদর হাসপাতালে আনা হয়েছে।
জিটিএ-এর ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ চৌহান জানিয়েছেন, “অনিন্দিতার দেহ কলকাতায় পাঠানোর জন্য সমস্ত ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মানেভঞ্জনের ল্যান্ড রোভার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা সহযোগিতা করেছেন এবং মৃতার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।”
বারবার মৃত্যুমিছিল, প্রশাসনের উদাসীনতা
এই প্রথম নয়, সান্দাকফুতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে বা হাই অল্টিটিউডজনিত কারণে এর আগেও একাধিকবার পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরেই ১৫ এপ্রিল পূর্ব বর্ধমানের রাজ নারায়ণ দে (৫৫), তার আগে উত্তর দিনাজপুরের এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। গত বছর অক্টোবর মাসে ইজরায়েলের এক পর্যটক এবং নভেম্বরে কলকাতার আশিস ভট্টাচার্য (৫৮) ও ডিসেম্বরে অঙ্কিতা ঘোষ (২৮)-এরও মৃত্যু হয় সান্দাকফুতে।
পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে বারবার পর্যটকদের এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জিটিএ-এর স্বাস্থ্যবিধি ও নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। এতকিছুর পরেও সান্দাকফুতে এখনও কোনো প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র (Primary Health Centre) তৈরি করা হয়নি। এছাড়া, প্রবীণ বা অসুস্থ পর্যটকদের সান্দাকফুর মতো উচ্চতায় যাওয়া উচিত কি না, বা কাদের জন্য এই যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ—সে বিষয়ে প্রশাসনের তরফে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশিকা এবং নজরদারি নেই। ফলে, মাঝেমধ্যেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে।