সাত সকালে তীব্র কম্পন! ইন্দোনেশিয়ার বুকে আছড়ে পড়ল ৬.৭ মাত্রার জোরালো ভূমিকম্প

প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’-এর উপর অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় আবারও এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়। মঙ্গলবার সকালে এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপ। সাত সকালে আচমকা এই তীব্র ভূ-কম্পন অনুভূত হতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে মানুষজন ঘর ছেড়ে খোলা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

ইন্দোনেশিয়ার ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা ‘বিএমকেজি’ (BMKG) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৬.৭, যা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ধ্বংসাত্মক বলে বিবেচিত হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর, এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল সুলাওয়েসির পালু শহর থেকে প্রায় ৪২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই কম্পনের উৎসস্থল। অগভীর উৎস হওয়ার কারণে সুলাওয়েসি দ্বীপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে কম্পনের তীব্রতা অত্যন্ত জোরালোভাবে অনুভূত হয়েছে।

ভূমিকম্পের ধাক্কায় ঘরবাড়ি কেঁপে উঠতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। তবে স্বস্তির খবর এই যে, প্রশাসনের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কোনো সুনামির সতর্কবার্তাও (Tsunami Alert) জারি করেনি আবহাওয়া দপ্তর। তবে আতঙ্ক এখনই কাটছে না। বিএমকেজি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর যেকোনো মুহূর্তে শক্তিশালী ‘আফটারশক’ বা অনুকম্পন আঘাত হানতে পারে। ফলে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে এবং বাসিন্দাদের আপাতত সতর্ক ও নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় টেকটোনিক প্লেটের জটিল বিন্যাস রয়েছে, যার ফলে এখানে প্রায়শই ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। এর আগে ২০২২ সালে সেদেশে একটি জোড়া ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, যেখানে ২৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে বহু শিশু ছিল। মঙ্গলবারের এই ঘটনায় বড় কোনো বিপর্যয় না ঘটলেও, আফটারশকের আশঙ্কায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে সুলাওয়েসিতে।