উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর ব্লকের বিথারী হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এক বাংলাদেশি গৃহবধূর জালিয়াতি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে এবং জনৈক এক ব্যক্তিকে ‘সাজানো বাবা’ পরিচয় দিয়ে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এমনকি পাসপোর্ট পর্যন্ত তৈরি করে ফেলেছেন ওই মহিলা। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসতেই শুরু হয়েছে কড়া আইনি তৎপরতা।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের সাতক্ষীরার বাসিন্দা শারমিন সুলতানা ২০০৭ সালে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আসেন। এরপর তিনি স্থানীয় এক যুবককে বিয়ে করেন। অভিযোগ, ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে তিনি স্থানীয় আছিরুদ্দিন গাজী নামে এক ব্যক্তিকে নিজের বাবা পরিচয় দিয়ে সমস্ত সরকারি নথিপত্র তৈরি করান। দীর্ঘ সময় বিষয়টি ধামাচাপা থাকলেও সম্প্রতি ‘এনুমারেশন ফর্ম’ পূরণ করার সময় এবং নথিপত্রে কিছু ত্রুটি ধরা পড়ায় প্রশাসনের সন্দেহ হয়। দেখা যায়, নথিপত্রে বাবার নামের জায়গায় অসঙ্গতি রয়েছে।
এই জালিয়াতি সামনে আসতেই স্বরূপনগরের বিডিও ধ্রুবজ্যোতি রায় ওই গৃহবধূকে শুনানির জন্য তলব করেন। বিডিও জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অত্যন্ত কঠোর। ওই মহিলা যদি ভারতের বৈধ নাগরিকত্বের সঠিক প্রমাণ বা ম্যাপিং দেখাতে না পারেন, তবে অবিলম্বে ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হবে। পাশাপাশি জাল নথি তৈরির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। এই ঘটনা সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ এবং জাল নথিপত্র তৈরির চক্র নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।