আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি-র রণকৌশল এবং শাসকদলের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অপব্যবহারের অভিযোগে সোমবার সল্টলেক থেকে তোপ দাগলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি শুধু বিজেপির নির্বাচনী পরিকল্পনা ফাঁস করলেন না, মুখ্যমন্ত্রীর ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ প্রচারের নামে সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তীব্র আক্রমণ করলেন।
বিজেপি-র ‘৫০ লাখ অতিরিক্ত ভোট’ মাস্টারস্ট্রোক
শুভেন্দু অধিকারী জানান, ভোটের আগে বিজেপির প্রধান লক্ষ্য হল রাজ্যে ১০ শতাংশ ভোট বাড়ানো এবং ৫০ লাখ অতিরিক্ত ভোট নিজেদের পক্ষে আনা। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য্যের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই লক্ষ্যপূরণের জন্য সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে ‘নিঃশর্ত’ যোগদানকারীদের দলে টানতে একটি রাজ্যস্তরের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়।
বিরোধী দলনেতা বলেন, উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকে শুরু করে মেদিনীপুর-চব্বিশ পরগনা পর্যন্ত হাজার হাজার পরিবার বিজেপিতে যোগ দিতে আগ্রহী। গত দু’সপ্তাহ ধরে সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষ— অধ্যাপক, শিক্ষক, ডাক্তার, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিক, কবি-সাহিত্যিক— বিনা শর্তে দলে যোগদানের আবেদন করছেন।
শুভেন্দুর হাত ধরে বড় যোগদান
এদিন শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিজেপিতে তিনটি বড় যোগদান সম্পন্ন হয়। তিনি ঘোষণা করেন, অধ্যাপক অজয়কুমার দাস, অধ্যাপক সঞ্জীব হাঁসদা এবং পুলিশের ইন্সপেক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করা বঙ্কিম বিশ্বাস আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিলেন। এই যোগদান আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি-র সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির ইঙ্গিতবাহী।
মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ
শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের শাসকদল এবং মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “প্রশাসন এখন মুখ্যমন্ত্রীর পকেটে চলছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ প্রচারটি আসলে সরকারি অর্থ এবং প্রশাসনকে ব্যবহার করে তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচার। শুভেন্দুর দাবি, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের তত্ত্বাবধানেই জেলাশাসক (DM) এবং বিডিও-দের চাপ দিয়ে এই প্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরের সরকারি মিটিংয়ে ৫০০ লোক ও ৫০ শতাংশ মহিলাকে বাধ্যতামূলকভাবে হাজির করিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রচার চলছে, যা প্রশাসনের চূড়ান্ত অপব্যবহার।
তিনি রাজ্যের মানুষের কাছে আবেদন জানান, তৃণমূলের এসব সরকারি মিটিংয়ে গিয়ে যেন মানুষ সরাসরি চাকরি, বাড়ি, শৌচালয়, জল এবং মহিলাদের নিরাপত্তার মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।