রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই ডবল ইঞ্জিন সরকারের গতিপথে ছুটছে নতুন প্রশাসন। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার প্রশাসনিক হালহকিকত খতিয়ে দেখতে আজ কল্যাণীতে এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাস্থ্য, পরিবহণ ও নারীকল্যাণসহ একাধিক জনমুখী প্রকল্পের কথা ঘোষণা করে তিনি একগুচ্ছ চমক দিলেন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করে দেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন ও গঠনমূলক কাজই তাঁর সরকারের একমাত্র লক্ষ্য।
মুখ্যমন্ত্রীর আজকের বৈঠকের সবথেকে বড় চমক ছিল ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র ঘোষণা। এতদিন রাজ্যে যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পটি প্রচলিত ছিল, তার পরিবর্তে এবার আসছে অন্নপূর্ণা যোজনা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামীকাল নবান্নে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এই যোজনার আনুষ্ঠানিক ফর্ম প্রকাশ করবেন। এই প্রকল্পের আওতায় উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩০০০ টাকা করে পাঠানো হবে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্য করবে। তবে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন; কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে সরকারি অর্থের ভাগ দেওয়া হবে না।
স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপ নিয়েছে নতুন সরকার। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডকে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের সাথে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। আগামী ৮ জুন দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে এই মর্মে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। তবে নতুন এই প্রকল্পগুলো পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং স্বাস্থ্যসাথী পরিষেবা আগের মতোই চালু থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
মহিলাদের সুরক্ষা ও সুবিধার কথা ভেবে পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ছাড় দিয়েছে সরকার। আগামী সপ্তাহ থেকেই সরকারি বাসে মহিলারা বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে সব মহিলারা এই সুবিধা পেলেও, অপব্যবহার রোধে পরবর্তীতে আলাদা কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও, রাজ্যজুড়ে ‘মা ক্যান্টিন’-এ এবার থেকে সপ্তাহে দু’দিন মাত্র ৫ টাকায় মাছ-ভাত পাওয়া যাবে। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করতে আয়ুষ দফতরকে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আলাদা করে পৃথক ‘আয়ুষ মন্ত্রক’ গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
জনসংযোগের খাতিরে প্রাক্তন সরকারের ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি আগামী সপ্তাহ থেকেই পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের পরামর্শে এই গ্রিভ্যান্স সেলের নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘আপনার সরকারকে বলুন’। খুব শীঘ্রই এর নতুন টোল ফ্রি নম্বর প্রকাশ করা হবে। আগামী ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাজ্যের সব ব্লক ও পুরসভায় বৃক্ষরোপণ করা হবে। পাশাপাশি, ১৫ থেকে ১৭ জুন রাজ্যজুড়ে বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্যের সব প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। ২১ জুন জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হবে বিশ্ব যোগ দিবস। আগামী দিনে একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর রাজ্য সফরের কথাও এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন।





