সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে আর ভোগান্তি নেই! রাজ্যে শুরু হলো ১১০০টি জনকল্যাণ শিবির, কীভাবে আবেদন করবেন?

রাজ্যজুড়ে শুরু হয়ে গেল বহু প্রতীক্ষিত ‘জনকল্যাণ শিবির’। ১৫ থেকে ১৭ জুন—এই তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই শিবিরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ এখন থেকে রাজ্য ও কেন্দ্রের মোট ৫৪টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি গ্রহণ করতে পারবেন। সোমবার নন্দীগ্রাম থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সকাল থেকেই রাজ্যের প্রতিটি জেলা ও ব্লকে স্থাপিত শিবিরগুলোতে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে।

নন্দীগ্রামের সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, রাজ্যের মোট ১১০০টি স্থানে একযোগে এই জনকল্যাণ শিবির পরিচালনা করা হচ্ছে। এদিনের অনুষ্ঠানে বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যেখানেই আমরা হাত দিচ্ছি, সেখানেই বিগত সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠছে। যেভাবে রাজ্যের টাকা লুঠ করা হয়েছে, তা ভাবলে অবাক হতে হয়।” তিনি স্পষ্ট আশ্বাস দেন যে, বর্তমান সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করবে। প্রয়োজনে প্রশাসনিক আধিকারিকরা নিজেরাই জনসাধারণের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেবেন। কোনো নাগরিক যাতে প্রতারিত না হন, তা নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

এই শিবিরগুলো থেকে যে ৫৪টি প্রকল্পের জন্য আবেদন করা যাবে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা: আয়ুষ্মান ভারত, অন্নপূর্ণা যোজনা, ন্যাশনাল সোশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম।

নারী ও শিশু কল্যাণ: সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও।

কৃষি ও কৃষক কল্যাণ: পিএম কিসান সম্মান নিধি, কিসান ক্রেডিট কার্ড, মাটির স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষি পরিকাঠামো তহবিল।

শিক্ষা ও অন্যান্য: স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড, আধার এনরোলমেন্ট ও সিডিং, সিএএ আবেদন।

ভূমি ও আবাসন: জমির রেকর্ড মিউটেশন, পাট্টার আবেদন, পিএম সূর্যঘর যোজনা, পিএম স্বনিধি যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, পিএম উজ্জ্বলা যোজনা ও পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা।

প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রতিটি শিবিরে প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করার জন্য বিশেষ হেল্পডেস্ক খোলা হয়েছে। নাগরিকদের যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য প্রতিটি ব্লকে অতিরিক্ত কর্মীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। এখন দেখার বিষয়, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়িত হয়ে কতটা দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে সুফল পৌঁছে দিতে পারে। যারা এখন পর্যন্ত এই সুযোগের কথা জানেন না, তাদের দ্রুত নিকটস্থ শিবিরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।