সমুদ্রে ২৫০ দিন কাটিয়ে সোজা থাইল্যান্ডে মার্কিন রণতরী! ৫০০০ সেনার পদক্ষেপে কেঁপে উঠল পাতায়া?

আমেরিকার পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন বুধবার সকালে থাইল্যান্ডের বিখ্যাত শহর পাতায়ায় এসে পৌঁছেছে। জাহাজটি একটানা ২৫০ দিন ধরে সমুদ্রে কাটিয়ে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে মার্কিন সেনাদের বহন করার পর থাইল্যান্ডের লেম চাবাং বন্দরে নোঙর করেছে। এই বিশাল রণতরীতে প্রায় ৫,০০০ মার্কিন সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্য রয়েছেন। তবে এই ভিআইপি সেনাদলের আগমন ঘিরেই পাতায়া জুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রশাসনিক তৎপরতা।

জাহাজটি পৌঁছানোর ঠিক আগেই পাতায়া পুলিশ শহরজুড়ে বিশাল অভিযান শুরু করে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় শহরের বিভিন্ন নাইটলাইফ এলাকায় টহল নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহান্তে চালানো আকস্মিক অভিযানে পতিতাবৃত্তির সন্দেহে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। মার্কিন সামরিক সদস্যদের এই বিশাল আগমন অবৈধ যৌন ব্যবসা এবং এর সঙ্গে জড়িত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তারা।

ব্যাংকক থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পাতায়া শহরটি তার সমুদ্র সৈকত এবং বর্ণিল রাত্রিজীবনের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। মার্কিন সামরিক কর্মীদের সঙ্গে পাতায়ার সম্পর্ক বেশ পুরনো। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় আমেরিকান সৈন্যরা বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য এই অঞ্চলে আসার পরই মূলত এই জেলেপাড়াটি একটি আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছিল। বর্তমানে এই শহরে মার্কিন সেনাদের আগমন স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা বাণিজ্যের ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাতায়ার মেয়রের মতে, প্রতিজন সেনাসদস্য প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ থেকে ৩,০০০ থাই বাত পর্যন্ত ব্যয় করতে পারেন।

তবে এই অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি বড় ধরনের সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। ব্যাংকক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশেষজ্ঞের মতে, হঠাৎ এই বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের সমাগম যৌন শোষণ এবং যৌনবাহিত রোগ (এসটিডি) ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। পাতায়া পুলিশ প্রধান স্বীকার করেছেন যে এই দীর্ঘদিনের সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন। একদিকে হাজার হাজার আমেরিকান কর্মীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো এবং অন্যদিকে অবৈধ বাণিজ্য ও অপরাধ দমন—দুটোই এখন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।