ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের আবহে এবার সরাসরি রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হলো আমেরিকা ও ইরান। ইজরায়েলকে মদত দেওয়ার বদলা নিতে সরাসরি মার্কিন নৌবহরের ওপর হামলা চালাল তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) দাবি করেছে, তারা লোহিত সাগরে মোতায়েন আমেরিকার অন্যতম গর্ব, পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-কে বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এই দাবিতে বিশ্বজুড়ে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
হামলার ধরণ ও ধ্বংসলীলা: IRGC-র পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “শত্রুপক্ষ যখন আমাদের পবিত্র ভূমি লক্ষ্য করে ষড়যন্ত্র করছিল, তখন আমাদের নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রগুলি আরব সাগরের নীল জলরাশিকে লাল করে দিয়েছে।” তাদের দাবি অনুযায়ী, একঝাঁক ‘কামিকাজে’ ড্রোন এবং অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন নৌবহরকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। একটি ভিডিও (যার সত্যতা যাচাই করা যায়নি) প্রকাশ করে ইরান দেখিয়েছে যে, একটি বিশালাকার জাহাজে আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলছে। ইরানের দাবি, এই হামলায় কয়েকশো মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটেছে এবং জাহাজটি বর্তমানে সমুদ্রের তলায় তলিয়ে যাওয়ার পথে।
পেন্টাগনের প্রতিক্রিয়া ও ধোঁয়াশা: ইরানের এই দাবি নিয়ে পেন্টাগন বা মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এখনও সরাসরি কোনও বিবৃতি দেয়নি। তবে হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, জো বাইডেন জরুরি ভিত্তিতে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছেন। মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আব্রাহাম লিঙ্কন এবং তার সঙ্গের যুদ্ধজাহাজগুলির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা চলছে। কোনও কোনও সূত্রের দাবি, জাহাজটি বিধ্বস্ত না হলেও বড়সড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং সেটি এখন নিজের গতিপথ বদলে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে এগোচ্ছে।
বিশ্বের ভবিষ্যৎ কোন পথে? যদি ইরানের এই দাবি বিন্দুমাত্র সত্যি হয়, তবে আমেরিকা আর চুপ করে বসে থাকবে না। আমেরিকার ওপর এই ধরণের সরাসরি আক্রমণ মানেই ইরানের ওপর বিশাল পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ইরান আসলে আমেরিকাকে সরাসরি যুদ্ধে টেনে আনতে চাইছে যাতে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলি তাদের পাশে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে এবং আকাশপথে বিমান চলাচল প্রায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।