ভারতের বিশাল সামুদ্রিক সীমান্ত সুরক্ষিত করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারতীয় নৌসেনা। প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর, দেশের ৭,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (EEZ) পাহারা দিতে ৪০০টি অত্যাধুনিক মনুষ্যবিহীন সারফেস ভেসেল (USV) বা ড্রোন জাহাজ কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই চালকহীন জাহাজগুলি মূলত সমুদ্রের উপরিভাগে টহল দেবে এবং শত্রুদেশের সাবমেরিন বা যুদ্ধজাহাজের গতিবিধিতে কড়া নজর রাখবে।
কেন এই ড্রোন জাহাজের প্রয়োজন? মুম্বই হামলার পর থেকে ভারতের উপকূলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ শক্তিশালী করা হয়েছে। তবে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনা নৌসেনার আনাগোনা এবং জলদস্যু ও ড্রোন হামলার ক্রমবর্ধমান আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে নৌসেনা এখন প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের দিকে ঝুঁকছে। এই ৪০০টি ভেসেল মোতায়েন করা হলে নৌসেনার জওয়ানদের জীবনের ঝুঁকি ছাড়াই দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো সম্ভব হবে। এগুলি আকারে ছোট হওয়ায় রাডারের চোখে ধুলো দিতে সক্ষম এবং অত্যন্ত ক্ষিপ্র গতিতে আক্রমণ চালাতে পারে।
প্রযুক্তি ও সক্ষমতা: এই ইউএসভি (USV) গুলি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তি দ্বারা পরিচালিত হবে। এতে থাকবে অত্যাধুনিক সেন্সর, হাই-ডেফিনিশন ক্যামেরা এবং প্রয়োজনে রিমোট-কন্ট্রোলড অস্ত্র ব্যবস্থা। ছোট আকারের এই জাহাজগুলি প্রতিকূল আবহাওয়াতেও উত্তাল সমুদ্রে দীর্ঘক্ষণ টিকে থাকতে পারে। এটি কেবল নজরদারি নয়, বরং সমুদ্রের তলদেশে থাকা মাইন শনাক্ত করা এবং শত্রু সাবমেরিনকে খুঁজে বের করার কাজেও পারদর্শী।
আত্মনির্ভর ভারত ও প্রতিরক্ষা: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ৪০০টি ভেসেলের সিংহভাগই তৈরি হবে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের অধীনে দেশীয় স্টার্টআপ এবং প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলিকে এই কাজের বরাত দেওয়া হবে। এর ফলে ভারতীয় নৌসেনার কার্যক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পও এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।
নৌসেনা আধিকারিকদের মতে, “এই ড্রোন জাহাজগুলি আমাদের ‘Force Multiplier’ হিসেবে কাজ করবে। এগুলি উপকূলরেখায় মোতায়েন থাকলে মূল যুদ্ধজাহাজগুলিকে গভীর সমুদ্রে কৌশলগত অপারেশনের জন্য ব্যবহার করা সহজ হবে।” এই পদক্ষেপ ভারতের সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক নতুন যুগের সূচনা করবে।