সমুদ্রের নতুন ‘অদৃশ্য’ শক্তি! ভারত-জাপান ‘ইউনিকর্ন’ রাডার কি চিনের রাতের ঘুম কেড়ে নেবে?

ভারত মহাসাগরে আধিপত্য বিস্তারে এবার এক অভাবনীয় চাল দিল নয়াদিল্লি। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে ভারত ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হলো ‘ইউনিকর্ন’ (UNICORN) মাস্ট বা রাডার সিস্টেমের ঐতিহাসিক চুক্তি। এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ভারতের যুদ্ধজাহাজগুলোকে এমন এক শক্তি প্রদান করবে, যা শত্রুদেশের রাডার বা মিসাইল সিস্টেমের পক্ষে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে। এক কথায়, সমুদ্রের বুকে ভারত পেতে চলেছে এক ‘অদৃশ্য’ যোদ্ধাকে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, এই ‘ইউনিকর্ন’ আসলে একটি ইন্টিগ্রেটেড মাস্ট (Integrated Mast), যা যুদ্ধজাহাজের উপরিভাগে বসানো হয়। এর বিশেষত্ব হলো এর ‘স্টিলথ’ (Stealth) প্রযুক্তি। সাধারণত যুদ্ধজাহাজের উপরিভাগে প্রচুর অ্যান্টেনা এবং রাডার থাকায় তা শত্রুর রাডারে সহজেই ধরা পড়ে যায়। কিন্তু জাপানি প্রযুক্তিতে তৈরি এই ‘ইউনিকর্ন’ সমস্ত সেন্সরকে একটি মসৃণ কাঠামোর ভেতরে লুকিয়ে রাখে। ফলে শত্রুর সিগন্যাল এখান থেকে প্রতিফলিত হতে পারে না, যার জেরে যুদ্ধজাহাজটি রাডারের চোখে কার্যত অদৃশ্য হয়ে যায়।

ভারত ও জাপানের এই যৌথ উদ্যোগ কেবল সামরিক শক্তিবৃদ্ধি নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগরে বেজিংয়ের ক্রমবর্ধমান দাপট রুখতে এই ‘ইউনিকর্ন’ রাডার গেম-চেঞ্জার হতে চলেছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর ‘প্রজেক্ট ১৫বি’ (Project 15B) শ্রেণির ডেস্ট্রয়ারগুলোতে এই রাডার ব্যবহারের সম্ভাবনা প্রবল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তির ফলে ভারত মহাসাগরে ভারতের নজরদারি ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং যেকোনো সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করা সহজ হবে।

জাপানের সঙ্গে এই উচ্চপ্রযুক্তির আদান-প্রদান বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, টোকিও ভারতকে তাদের অন্যতম প্রধান সামরিক সহযোগী হিসেবে দেখছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় এই রাডারের কিছু অংশ ভারতেই তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই ‘ইউনিকর্ন’ রাডার যুদ্ধক্ষেত্রে এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম যা শত্রুকে পালটা আঘাত করার সুযোগই দেবে না। সমুদ্রের নীল জলে এখন ভারতের এই নতুন ‘ইউনিকর্ন’ সেনার দাপট দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy