নিয়োগ দুর্নীতি ও কয়লা পাচার মামলার তদন্তে নেমে আইপ্যাক (I-PAC) অফিসে ইডির তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে উত্তাল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার শুনানির শুরুতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ফের উত্তর দেওয়ার জন্য বাড়তি সময় চাইলে তীব্র বিরোধিতা করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। রাজ্যের এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘সময় নষ্ট করার কৌশল’ বলে তোপ দাগেন তিনি।
আদালতে কী ঘটল? এদিন বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান অতিরিক্ত সময়ের আবেদন করলে তুষার মেহতা পাল্টাতে বলেন, “তদন্ত চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে তল্লাশির জায়গায় ঢুকে পড়েছিলেন, তা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এখন সময় চেয়ে মূল বিচার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা হচ্ছে।”
সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ: শুনানি চলাকালীন বিচারপতিরা রাজ্যের আচরণে উষ্মা প্রকাশ করেন। আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণগুলি হলো:
-
অস্বাভাবিক পরিস্থিতি: বিচারপতি মিশ্র মন্তব্য করেন, “মুখ্যমন্ত্রী নিজে তল্লাশিতে বাধা দিচ্ছেন, এটা কোনো সুখকর পরিস্থিতি নয়।”
-
ভবিষ্যৎ আশঙ্কা: আদালত প্রশ্ন তোলে, “আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঢুকেছেন, কাল যদি অন্য কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এভাবেই ইডির তল্লাশিতে ঢুকে পড়েন, তবে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি কাজ করবে কীভাবে?”
-
সময় সীমা: আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, ইতিমধ্যে চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। নতুন করে সময় নেওয়ার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।
মামলার প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি কলকাতায় আইপ্যাক অফিসে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ইডির। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, মুখ্যমন্ত্রী সেখান থেকে ল্যাপটপ, ফোন এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে বেরিয়ে যান, যা প্রমাণ নষ্টের সামিল। অন্যদিকে, রাজ্য সরকার একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করেছে।
সম্পাদকের নোট: আইপ্যাক মামলাটি এখন কেবল আইনি লড়াই নয়, বরং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের এক অগ্নিপরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আজকের কড়া অবস্থান নবান্নের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।