‘সময়মতো নমুনা সংগ্রহে ব্যর্থতা’! ২৩ শিশুর মৃত্যু নিয়ে তামিলনাড়ু সরকারকে সরাসরি দায়ী করলেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী

মধ্যপ্রদেশে ভেজাল কাশির সিরাপ সেবন করে প্রায় ২৩ জন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের মাঝে ওষুধ পরীক্ষার বাস্তবতা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ভারতের নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক জেনারেল (CAG) গত বছর পেশ করা এক রিপোর্টে তামিলনাড়ুতে ওষুধ পরিদর্শনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুতর ঘাটতি চিহ্নিত করে ওষুধ কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন।
মধ্যপ্রদেশের এই শিশুদের মৃত্যুর সঙ্গে তামিলনাড়ু-ভিত্তিক কোম্পানি স্রেসান ফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি কোল্ড্রিফ সিরাপের সম্পর্ক রয়েছে।
CAG রিপোর্টে ভয়ঙ্কর চিত্র
১০ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে জনস্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উপর পেশ করা CAG-এর পারফরম্যান্স নিরীক্ষায় ওষুধ পরিদর্শন এবং নমুনা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড়সড় ঘাটতি ধরা পড়ে।
সময়কাল পরিদর্শনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত পরিদর্শন ঘাটতি
২০১৬-১৭ ১,০০,৮০০ ৬৬,৩৩১ ৩৪%
২০২০-২১ ১,০০,৮০০ ৬২,৩৫৮ ৩৮%
রিপোর্টে আরও জানানো হয়, এই সময়কালে ওষুধ পরিদর্শকদের দ্বারা পরীক্ষার জন্য ওষুধ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল ৫৪% (২০১৮-১৯ এবং ২০২০-২১ সালে)। ওষুধের মান নিশ্চিত করতে এবং ভেজাল রোধ করতে সময়মতো এই পরিদর্শনগুলি করা অপরিহার্য।
কোল্ড্রিফ সিরাপে বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি
শিশুদের ঠান্ডা লাগার চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত কোল্ড্রিফের নমুনা পরীক্ষায় দেখা যায়, এতে ডাইথিলিন গ্লাইকল (ডিইজি) নামক বিষাক্ত পদার্থ পাওয়া গিয়েছে। ডিইজি মূলত ছাপার কালি এবং আঠা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, যা মানুষের কিডনি, লিভার এবং স্নায়ুতন্ত্রের গুরুতর ক্ষতি করতে পারে।
পরবর্তী পরিদর্শনে দেখা যায়, স্রেসানের কাঞ্চিপুরম কারখানায় বিলবিহীন ডাইথিলিন গ্লাইকলের পাত্র পাওয়া গিয়েছে এবং কোম্পানিটি কোল্ড্রিফ কাশির সিরাপে মাত্র ০.১ শতাংশ অনুমোদিত সীমার বাইরে গিয়ে ৪৬-৪৮ শতাংশ ডিইজি যোগ করছে।
তামিলনাড়ু ড্রাগস কন্ট্রোল অথরিটি ইতিমধ্যেই উৎপাদন বন্ধের আদেশ দিয়েছে, সমস্ত মজুদ ওষুধ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এবং কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। স্রেসান ফার্মার মালিক রঙ্গনাথন গোবিন্দনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব তাঁর রাজ্যে ২৩ জনেরও বেশি শিশুর মৃত্যুর জন্য সরাসরি তামিলনাড়ু সরকারকে দায়ী করেছেন। তিনি এটিকে কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ব্যর্থতা হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
মোহন যাদব বলেন, “তামিলনাড়ুর কারখানায় তৈরি কাশির সিরাপের উৎপাদন ত্রুটির কারণেই এই মৃত্যু ঘটেছে। তাই, সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং নমুনা সংগ্রহ প্রথমে সেখানেই শুরু করা উচিত ছিল।”