সমকামী সাজিয়ে শরণার্থী ঢোকাচ্ছিল, ব্রিটেনে কীভাবে চলত এই বাংলাদেশি নেটওয়ার্ক?

ব্রিটেনে অবৈধভাবে বাংলাদেশিদের আশ্রয় পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা! যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ভুয়ো দাবি খাড়া করে আশ্রয়ের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে লন্ডনে গ্রেফতার করা হলো এক বাংলাদেশি রূপান্তরকামী মহিলাকে। ‘ডেইলি মেল’-এর চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে এই আন্তর্জাতিক জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস হতেই ব্রিটেন জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

কীভাবে চলত এই প্রতারণা চক্র? অভিযুক্ত ৪২ বছর বয়সী সাজ্জাদ মিয়া ২০১৩ সালে নিজেই যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার দাবি জানিয়ে ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ‘আপনজন’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, যার মূল কাজ ছিল বাংলাদেশ থেকে আসা এলজিবিটি (LGBTQ+) সম্প্রদায়ের মানুষদের সহায়তার হাত বাড়ানো। কিন্তু অভিযোগ, এই মানবসেবার আড়ালেই গড়ে তোলা হয়েছিল এক অবৈধ অভিবাসন চক্র।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের (Home Office) দাবি, এই সংগঠনটি বাংলাদেশ থেকে আসা পুরুষদের সমকামী সাজিয়ে ব্রিটেনে থাকার ব্যবস্থা করে দিত। এর জন্য এক এক জনের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৪,৫০০ পাউন্ড (ভারতীয় মুদ্রায় কয়েক লক্ষ টাকা) পর্যন্ত নেওয়া হতো। নিজ দেশে ফিরলে তাঁরা মারাত্মক নির্যাতনের শিকার হবেন—এই দাবি আদালতের কাছে প্রতিষ্ঠা করতে ভুয়ো চিঠি, ছবি ও নানা জাল নথি তৈরি করে দেওয়া হতো।

অভিযুক্তের বাড়িতে হোম অফিসের অভিযান জালিয়াতি ও অবৈধ অভিবাসনে মদত দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সম্প্রতি সাজ্জাদ মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালান হোম অফিসের আধিকারিকরা। সেখান থেকে প্রচুর নগদ পাউন্ড, দামি গয়না এবং বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্য এক অভিযুক্তকে অবৈধভাবে ব্রিটেনে বসবাসের অভিযোগে আটক করেছে পুলিশ।

অভিযোগ অস্বীকার ও তদন্ত: গ্রেফতারির পর অবশ্য বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন সাজ্জাদ। তাঁর ওপর ওঠা تمام অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমাকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ‘আপনজন’ কোনও বেআইনি কাজ করে না। নিজ দেশে চরম নির্যাতনের মুখে পড়া প্রকৃত এলজিবিটি মানুষদেরই আমরা মানবিক সাহায্য দিয়ে থাকি। বাজেয়াপ্ত হওয়া টাকা ছিল আমার বাড়ি ভাড়ার এবং গয়নাগুলি আমার বোনের।”

বর্তমানে ‘আপনজন’ সংগঠনের মাধ্যমে ব্রিটেনে আশ্রয় পাওয়া বা আবেদন করা ১০০-রও বেশি মানুষের ফাইল নতুন করে খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে বড়সড় আইনি ধাক্কার মুখে পড়তে পারে এই চক্রটি।