যন্তর-মন্তরে আর কোনো আন্দোলন নয়! দিল্লির প্রতিবাদের মানচিত্র বদলে দিয়ে বড় নির্দেশ কেন্দ্রের

রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক এবং নাগরিক আন্দোলনের মানচিত্রে এক সুদূরপ্রসারী ও ঐতিহাসিক বদল আনতে চলেছে কেন্দ্র। দিল্লির দীর্ঘদিনের পরিচিত এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রতিবাদের কেন্দ্রস্থল ‘যন্তর মন্তর’-কে এবার থেকে আর সরকারিভাবে বিক্ষোভের অনুমোদিত বা নির্দিষ্ট স্থান হিসেবে গণ্য করা হবে না। নতুন সংশোধিত নির্দেশিকায় দিল্লির বুকে রাজনৈতিক আন্দোলন, বিক্ষোভ ও জমায়েতের জন্য সম্পূর্ণ নতুন তিনটি জায়গার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে দিল্লি পুলিশ।

দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (MHA) গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুনির্দিষ্ট সুপারিশের ভিত্তিতেই এই বড় ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে ক্রমাগত বাড়তে থাকা ভিড়, যানজট এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সমস্যা এড়াতেই এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে দাবি প্রশাসনের। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে কেবল ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দান (Ramlila Maidan), উত্তর দিল্লির বুরারি ময়দান (Burari Maidan) এবং পূর্ব দিল্লির শাহদড়ার সিবিডি গ্রাউন্ড (CBD Ground)-কেই প্রতিবাদের একমাত্র নির্দিষ্ট ভেন্যু বা স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অতীতে যন্তর-মন্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ সহজেই তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে ধর্না বা বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে পারত। কিন্তু প্রশাসনের এই নতুন নির্দেশ জারির পর থেকে যন্তর-মন্তরে আর কোনো ধরনের জনসভা, মিছিল বা বিক্ষোভের অনুমতি মিলবে না। সমস্ত ধরনের আন্দোলন এবার থেকে নির্দিষ্ট এই তিনটি সুবিশাল প্রান্তরেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। গণতন্ত্রে প্রতিবাদের অধিকার বজায় রাখা হলেও শহরের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে এই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রতিবাদের ঠিক প্রাক্কালে কেন্দ্রের এই নির্দেশিকা জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনে এই সিদ্ধান্ত রাজধানীর রাজনৈতিক দলগুলির আন্দোলনকে কতটা প্রভাবিত করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।