সভা শুরুর আগেই তুলকালাম! অসমে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র নেতাদের গ্রেফতারে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

অসমের রাজনৈতিক অঙ্গনে রবিবার এক চাঞ্চল্যকর ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গুয়াহাটির অসম সচিবালয়ের কাছাকাছি এলাকায় ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রথম আঞ্চলিক কর্মী সভার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সভা শুরু হওয়ার ঠিক আগেই পুলিশি পদক্ষেপে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। গুয়াহাটি পুলিশ সিজেপি-র সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কাসহ সংগঠনের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা ও কর্মীকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে করে থানায় নিয়ে যায়। এই আকস্মিক পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে।

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, এই আঞ্চলিক সভায় যোগ দেওয়ার জন্য অসম এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলি থেকে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক জড়ো হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। মূলত রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি, স্থানীয় বিভিন্ন জ্বলন্ত সমস্যা এবং আগামী দিনে অসমে দলের সাংগঠনিক কাজকর্ম ও নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার রূপরেখা তৈরি করতেই এই সভার ডাক দেওয়া হয়েছিল। সিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সভাটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ আগে থেকেই সমস্ত প্রস্তুতি ভেস্তে দিতে সচেষ্ট হয়।

ভোরবেলা থেকেই সভাস্থলে যাওয়ার সমস্ত রাস্তা পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়, যাতে কোনো কর্মী সেখানে পৌঁছাতে না পারেন। এরপর পাহাড়ি এলাকায় যখন কর্মীরা একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই চত্বর ঘিরে ফেলে ব্যাপক গ্রেফতারি চালায় পুলিশ। সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপক ও অঙ্কিত ভরদ্বাজ অভিযোগ করেছেন যে, আশুতোষ রাঙ্কা ছাড়াও অঙ্কিত ভরদ্বাজ এবং প্রেম আকাশসহ সংগঠনের বহু বিশিষ্ট সদস্যকে জোরপূর্বক আটক করে গুয়াহাটির একটি পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশি বাসে তোলার সময় ক্ষোভ উগরে দিয়ে নেতারা বলেন যে একটি শান্তিপূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী সভাকে রুখতে প্রশাসন যে দমনপীড়ন চালাল, তা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। তবে এই ব্যাপক গ্রেফতারির নেপথ্যে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রশাসনিক বা আইনি কারণের কথা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।