ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের জেরে মাথায় হাত গ্রাহকদের! কাল থেকে টানা ৩ দিন কোন কোন পরিষেবা বন্ধ থাকছে? দেখে নিন তালিকা

কাল সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে শুরু হতে চলেছে তিন দিনের মেগা ব্যাঙ্ক ধর্মঘট। চলবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস (UFBU)-এর ডাকে এই ধর্মঘটের জেরে বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এবং আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলির দৈনন্দিন পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং সপ্তাহ চালু করা সহ একাধিক জোরালো দাবিতে এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাসের শেষ দিন অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর ব্যাঙ্কগুলির অর্ধবার্ষিক আর্থিক হিসাব বন্ধের ব্যস্ত কাজও রয়েছে। ফলে শাখাভিত্তিক স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিতে এই ধর্মঘটের প্রভাব তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কোন কোন পরিষেবা বন্ধ বা ব্যাহত হতে পারে?
নগদ লেনদেন: ব্যাঙ্কের ফিজিক্যাল কাউন্টার থেকে নগদ টাকা জমা দেওয়া বা তোলার কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকতে পারে।
চেক সংক্রান্ত কাজ: চেক প্রসেসিং এবং ক্লিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দেরি হতে পারে।
পাসবুক আপডেট: ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে পাসবুক প্রিন্ট বা আপডেট করানোর সুযোগ নাও মিলতে পারে।
অন্যান্য পরিষেবা: নতুন ডিমান্ড ড্রাফট তৈরি, কেওয়াইসি (KYC) আপডেট, নথি যাচাই এবং ঋণ সংক্রান্ত শাখা-নির্ভর কাজগুলি সাময়িকভাবে পিছিয়ে যেতে পারে। এছাড়া ব্যাঙ্কের শাখা বন্ধ থাকায় গ্রাহকরা লকার পরিষেবা থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন।
কোন কোন পরিষেবাগুলি চালু থাকবে? ধর্মঘট মূলত ব্যাঙ্কের ফিজিক্যাল শাখাগুলির কাজকে প্রভাবিত করবে। ফলে ডিজিটাল এবং স্বয়ংক্রিয় মাধ্যমগুলির বড় অংশই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকবে।
UPI ও ডিজিটাল লেনদেন: ইউপিআই (UPI)-এর মাধ্যমে টাকা পাঠানো, মোবাইল ব্যাঙ্কিং এবং ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ের সাহায্যে বিল পেমেন্ট ও ফান্ড ট্রান্সফারের কাজ নির্বিঘ্নে করা যাবে।
এটিএম পরিষেবা: এটিএম (ATM) থেকে টাকা তোলার কাজ চালু থাকবে। তবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এটিএম-এ নগদের জোগান কেমন রয়েছে, তার উপর নির্ভর করবে পরিষেবা। এছাড়া ক্যাশ ডিপোজিট মেশিনে টাকা জমার সুবিধা মিলবে।
রবিবার ব্যাঙ্ক খোলা রাখার বিশেষ সিদ্ধান্ত ধর্মঘটের ধাক্কা কিছুটা সামাল দিতে এবং গ্রাহকদের অসুবিধা কমাতে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে গত ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার রাষ্ট্রায়ত্ত এবং গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলি খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অনুমোদনে দেশের সমস্ত ব্যাঙ্কের শাখা, অফিস ও কারেন্সি চেস্ট খোলা রাখা হয়, যাতে জরুরি কাজগুলি ধর্মঘট শুরু হওয়ার আগেই মিটিয়ে নেওয়া যায়।
ব্যাঙ্ক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, জরুরি আর্থিক লেনদেন বা শাখা-নির্ভর কাজ থাকলে যত দ্রুত সম্ভব তা সেরে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অপ্রয়োজনীয় বা জরুরি নয় এমন কাজগুলির ক্ষেত্রে ধর্মঘট মিটে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা যেতে পারে।