সব হিসেব নিকেশ শেষ? হাইকোর্টের কড়া নির্দেশে বড় বিপাকে জাহাঙ্গীর খান!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খান এবার আইনি জালে পুরোপুরি আটকা পড়লেন। বিধানসভা নির্বাচনের আবহে যিনি নিজেকে ফলতার ‘পুষ্পা’ বলে ঘোষণা করেছিলেন, সেই জাহাঙ্গীর খানের ওপর থেকে এবার আদালতের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষাকবচ তুলে নেওয়া হলো। বিচারপতি পার্থসারথি সেনের নেতৃত্বাধীন কলকাতা হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ তাঁর আবেদনের মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকার করায়, এখন যেকোনো মুহূর্তে তাঁর গ্রেফতারি হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

কেন এই পরিস্থিতি? নির্বাচনের সময় ফলতা বিধানসভায় বুথ দখল, ভোটারদের হুমকি এবং ইভিএম নিয়ে কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই সময় আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুবিধার্থে জাহাঙ্গীরকে সুরক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত ২৪ মে ফলতার পুনর্নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর, আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, সেই সুরক্ষাকবচের যৌক্তিকতা এখন আর নেই।

মামলার গুরুত্ব: জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে ফলতা থানায় একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে:

  • ভোট জালিয়াতি ও বুথ দখলের চেষ্টা।

  • সাধারণ ভোটারদের হুমকি দেওয়া।

  • মোট ৭টি ফৌজদারি মামলা (FIR) নথিভুক্ত রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

বিচারপতি পার্থসারথি সেন স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দোহাই দিয়ে কোনো অভিযুক্তকে অনির্দিষ্টকালের জন্য গ্রেফতারি থেকে অব্যাহতি দেওয়া আদালতের পক্ষে সম্ভব নয়।

রাজনৈতিক উত্তাপ: জাহাঙ্গীর খানের এই দুর্দিনে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পুরনো হুঁশিয়ারির প্রসঙ্গ টেনে অনেকেই এটিকে ‘হিসাব মেলা’র সময় বলে মন্তব্য করছেন। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জাহাঙ্গীর খানের মতো প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে আদালতের এই অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে যেমন তৃণমূলের অভ্যন্তরে অস্বস্তি বেড়েছে, অন্যদিকে পুলিশের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার।

এখন দেখার বিষয়, জাহাঙ্গীর খান আত্মসমর্পণ করেন, নাকি পুলিশ তাঁকে গ্রেফতারের অভিযান শুরু করে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy