একদিকে ‘ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনেমা এমপ্লয়িজ’ (FWICE)-এর অসহযোগিতা নির্দেশিকা বা অলিখিত নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে ‘কান্তারা’ সিনেমার চরিত্র নিয়ে করা বিতর্ক—সব মিলিয়ে বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন রণবীর সিং। ঠিক এমন এক টালমাটাল সময়েই মঙ্গলবার কর্ণাটকের মহীশূরের বিখ্যাত চামুণ্ডেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিতে দেখা গেল তাঁকে।
কেন এই মন্দির দর্শন? নেটিজেনদের একাংশ মনে করছেন, বলিউডের বর্তমান পরিস্থিতির জন্যই রণবীর আধ্যাত্মিকতার আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে এই মন্দির দর্শনের নেপথ্যে রয়েছে এক আইনি বাধ্যবাধকতা। শোনা যাচ্ছে, গত বছর একটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘কান্তারা’ সিনেমার একটি পবিত্র চরিত্রকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে অনুকরণ করার অভিযোগ ওঠে রণবীরের বিরুদ্ধে। এই নিয়ে কর্ণাটক হাইকোর্টে মামলাও দায়ের হয়েছিল।
আদালতের নির্দেশ পালন: আইনি লড়াইয়ের এক পর্যায়ে রণবীর সিং নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং মামলাটি খারিজ করার আর্জি জানান। সেই মামলার শুনানির সময় হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, বিষয়টি পুরোপুরি মিটিয়ে ফেলতে হলে অভিনেতাকে ব্যক্তিগতভাবে কর্ণাটকের চামুণ্ডেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে। আদালতের সেই নির্দেশ মেনেই মঙ্গলবার রণবীর মহীশূরে গিয়ে মন্দিরের গর্ভগৃহে বিশেষ পুজো দেন। ভক্ত ও স্থানীয়দের দাবি, আদালতের দেওয়া চার সপ্তাহের সময়সীমার মধ্যেই অভিনেতা এই ধর্মীয় দায়বদ্ধতা পালন করলেন।
চাপে রণবীর? এদিকে, ‘ডন ৩’ ছবি থেকে আচমকা সরে দাঁড়ানো এবং ফারহান আখতারের প্রযোজনা সংস্থার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে ফেডারেশন রণবীরের বিরুদ্ধে ‘নন-কোঅপারেশন ডিরেক্টিভ’ জারি করেছে। এর ফলে ইন্ডাস্ট্রির ৩০টি শাখার কর্মীরা তাঁর সঙ্গে কাজ না করার বার্তা পেয়েছেন। এই ডবল চাপে রণবীর সিং বর্তমানে বেশ কোণঠাসা। বিমানবন্দরেও তাঁকে আজ অত্যন্ত সতর্ক এবং গম্ভীর দেখা গিয়েছে।
কঠোর আইনি পদক্ষেপ এবং ইন্ডাস্ট্রির বয়কটের মুখে দাঁড়িয়ে রণবীরের এই মন্দির দর্শন কি আদৌ তাঁকে সব বিতর্ক থেকে মুক্তি দেবে? এখন সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে বিনোদন মহলে।





