বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে এবার ভারতসহ বিশ্বের প্রধান তেল আমদানিকারী দেশগুলোকে কড়া বার্তা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের অবাধ সরবরাহ নিশ্চিত করার একক দায়ভার আমেরিকার নয়। যে দেশগুলো ওই পথ ব্যবহার করে খনিজ তেল আমদানি করে, সেই দেশগুলোকেও এবার নিরাপত্তার দায়িত্ব ও খরচ ভাগ করে নিতে হবে।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথটি বিশ্বের মোট খনিজ তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সাক্ষী। ট্রাম্পের যুক্তি, চিন, জাপান এবং ভারতের মতো দেশগুলো এই পথ থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পায়, অথচ গত বহু বছর ধরে আমেরিকার নৌবাহিনী একা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে। ট্রাম্পের বয়ান অনুযায়ী, “আমরা কেন বিনা পারিশ্রমিকে বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারকদের নিরাপত্তা দিয়ে যাব? তাদের নিজেদের জাহাজের সুরক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা ও ইচ্ছা— দুইই থাকা উচিত।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই বার্তার লক্ষ্য আসলে ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা ব্যয় কমানো এবং মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা। বিশেষ করে ইরানের সাথে উত্তেজনার আবহে এই পথে জলদস্যু বা ড্রোন হামলার আতঙ্ক লেগেই থাকে। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির ফলে ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলোর ওপর বড়সড় আর্থিক ও সামরিক চাপ বাড়তে পারে। ভারত ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তাই হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তায় যদি দিল্লির অংশীদারিত্ব বাড়ে, তবে তেলের দামেও তার প্রভাব পড়তে পারে।