২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। সোমবার কলকাতায় কমিশনের ফুল বেঞ্চের ম্যারাথন বৈঠকে মেজাজ হারালেন খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার। বৈঠক চলাকালীন রাজ্য পুলিশের এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) বিনীত গোয়েলের কোনো এক সাফাইয়ে সন্তুষ্ট না হয়ে তাঁকে মাঝপথেই থামিয়ে দিয়ে ‘বসে পড়ার’ নির্দেশ দেন তিনি। সিইসি-র এই মারমুখী মেজাজে সভাগৃহে কার্যত পিন পতন স্তব্ধতা তৈরি হয়।
সূত্রের খবর, রাজ্যে ‘নারকোটিক্স অ্যাডভাইজরি কমিটি’ গঠনে বিলম্ব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এডিজি বিনীত গোয়েল ব্যাখ্যা দিতে শুরু করতেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন জ্ঞানেশ কুমার। তিনি কড়া ভাষায় বলেন, “আমাদের কাছে সব খবর আছে, আপনি বসুন।” কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রতিটি পুলিশ আধিকারিকের কাজের ‘ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট’ তাদের নজরে রয়েছে। কর্তব্যে কোনো প্রকার গাফিলতি বা ঢিলেমি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
এদিন প্রায় ২৪টি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে কমিশন। সেখানে সিইসি জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “নির্বাচন কমিশন শুধু দু-তিন মাসের জন্য সক্রিয় নয়, এই ভুল ধারণা থেকে কর্তারা যেন বেরিয়ে আসেন।” পুলিশ এবং জেলাশাসকদের স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ভোটের সময় পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করলে ফল হবে ভয়ঙ্কর। এই বৈঠক শেষে কমিশনের কড়া মেজাজ দেখে নবান্নের অন্দরেও কম্পন শুরু হয়েছে।