সবাই তখন গভীর ঘুমে… মাঝরাতে তীব্র বিস্ফোরণে ছাই আস্ত বাড়ি! শিলিগুড়িতে তুলকালাম

গভীর রাত। আশপাশের সবাই তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। ঠিক সেই সময়ই আচমকা বাড়িতে আগুনের লেলিহান শিখা! মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ল গোটা বাড়িতে এবং তার মধ্যেই বিকট শব্দে ফেটে গেল গ্যাস সিলিন্ডার। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শিলিগুড়ির চম্পাসারির মধ্য পালাশ এলাকায় এমনই এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা আগুন আর ঘন কালো ধোঁয়া দেখে শিউরে ওঠেন আশপাশের বাসিন্দারা।
বুঝে ওঠার আগেই ছড়িয়ে পড়ে আগুন
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার মাঝরাতে হঠাৎ করেই বাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। প্রথমে বিষয়টি বাসিন্দারা ঠিকমতো বুঝে ওঠার আগেই আগুনের গ্রাস দ্রুত বাড়তে থাকে। বাড়ির ভেতর থেকে আগুনের শিখা বাইরের দিকে বের হতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন প্রতিবেশীরা। দেখতে দেখতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় আশপাশের অনেকেই নিজেদের বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে রাস্তায় নেমে আসেন।
কেঁপে উঠল এলাকা, বিস্ফোরিত সিলিন্ডার
আগুন যখন গোটা বাড়িময় ছড়িয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই ঘরের ভেতরে থাকা একটি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কাঁপন ধরে যায় গোটা মধ্য পালাশ এলাকায়। সিলিন্ডার ফাটার পর আগুনের তেজ বহুগুণ বেড়ে যায়। রাতের অন্ধকারে আগুনের ওই লেলিহান রূপ দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। অনেকেই ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আগুনের ভয়াবহতার কারণে কাছে ঘেঁষা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
প্রদীপের সলতে থেকেই কি বিপর্যয়?
প্রাথমিক অনুসন্ধানে অনুমান করা হচ্ছে, বাড়িতে জ্বালানো একটি প্রদীপের সলতে থেকেই হয়তো প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। সেখান থেকেই ধাপে ধাপে তা বাড়ির অন্যান্য দাহ্য সামগ্রীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে সিলিন্ডার ফেটে গিয়ে এই ধ্বংসলীলা চালায়। তবে এই অনুমানের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত প্রয়োজন। কীভাবে আগুন লাগল, বাড়িটির কোন অংশ থেকে প্রথম শিখা বের হয় এবং সিলিন্ডারটি কীভাবে ফেটে গেল—সেসব প্রশ্নের উত্তর পেতে তদন্ত চালাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
ঘুমের মধ্যে মধ্যরাতের এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চম্পাসারির বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এই অগ্নিকাণ্ডে বাড়িটির ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। অগ্নিকাণ্ডে কেউ হতাহত কিংবা আটকে পড়েছেন কি না, সে বিষয়েও এখনও পর্যন্ত কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।