যুদ্ধের বয়স ঠিক এক মাস। আর এই বিশেষ দিনেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমেরিকার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনল ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক স্কুলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ার ঘটনাটিকে স্রেফ ‘ভুল’ বলে মানতে নারাজ তেহরান। শুক্রবার রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সরাসরি দাবি করেছেন, ওটা কোনও দুর্ঘটনা ছিল না, বরং ছিল এক ‘পরিকল্পিত গণহত্যা’।
ঠান্ডা মাথার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ শাজারাহ তায়েবা প্রাথমিক স্কুলের সেই ভয়াবহ স্মৃতি আজও দগদগে। যে হামলায় ১৭৫ জন ছাত্র ও শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছিল, তাকে ‘ট্যাকনিক্যাল এরর’ বা কারিগরি ভুল হিসেবে মানতে নারাজ আরাগচি। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কাউন্সিলকে তিনি বলেন, “আমেরিকা ও ইজরায়েল সবসময় তাদের আধুনিক এবং নির্ভুল প্রযুক্তির বড়াই করে। তাহলে সেই প্রযুক্তিতে একটি স্কুলে মিসাইল আছড়ে পড়া কি ভুল হতে পারে? এটা আসলে ঠান্ডা মাথার নীল নকশা।”
পাল্টা যুক্তি ও উত্তজনা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ওই ভবনটিকে পুরনো সামরিক ঘাঁটি ভেবে হামলা চালানো হয়েছিল। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমনও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে ইরান হয়তো নিজেই নিজের স্কুলে হামলা করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের কাছে ওই মানের ঘাতক ক্ষেপণাস্ত্র নেই। ইরানের বিদেশমন্ত্রীর দাবি, আমেরিকা একেক বার একেক রকম কথা বলে দায় এড়াতে চাইছে। আরাগচির সাফ কথা, “খুনিদের শাস্তি চাই-ই।” যুদ্ধের এক মাস অতিক্রান্ত হওয়ার দিনে ইরানের এই হুঁশিয়ারি পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের পারদ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।