ইরানের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ এবার আন্তর্জাতিক যুদ্ধের আকার ধারণ করতে চলেছে। তেহরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন ও গুলি চালানোর ঘটনায় সরাসরি হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান সরকারকে ওপেন চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ট্রাম্প সাফ বলেছেন, “বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালালে আমেরিকাও পাল্টা গুলি চালাবে। যেখানে আক্রমণ করলে ইরানের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে, আমরা ঠিক সেখানেই হামলা চালাব।”
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য কার্যত তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের আগাম সঙ্কেত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরানে যা ঘটছে তা অভাবনীয়। মানুষ যেভাবে রাজপথে নেমেছে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। তিনি বলেন, “ইরান সরকার নিজের দেশের জনগণের সঙ্গে ভয়াবহ আচরণ করছে। আমরা স্পষ্ট করে দিয়েছি, যদি তারা অতীতে মতো গণহত্যা শুরু করে, তবে আমেরিকা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। আমরা অত্যন্ত কাছ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।” তিনি ইরানি নেতাদের কাছে আর্জি জানিয়েছেন যেন সাধারণ মানুষের ওপর অস্ত্র প্রয়োগ না করা হয়, অন্যথায় তার ‘মূল্য’ চোকাতে হবে ইরানকে।
এদিকে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তেহরান সহ উত্তর-পশ্চিম ইরানের প্রধান শহরগুলিতে আন্দোলন দমাতে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) স্থল বাহিনী মোতায়েন করেছে ইরান সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, নিজের দেশের মানুষের বিরুদ্ধে এই এলিট ফোর্স নামানোর সিদ্ধান্ত অত্যন্ত বিরল এবং বিপজ্জনক। গত ৭ জানুয়ারি থেকে বিক্ষোভের তীব্রতা মাত্রাছাড়া পর্যায়ে পৌঁছেছে।
পাল্টা সুর চড়িয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-ও। এই গণবিক্ষোভের পেছনে সরাসরি আমেরিকার হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এক জনসভায় খামেনেই ট্রাম্পকে ‘অহংকারী একনায়ক’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “বিক্ষোভকারীরা কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্য দেশের সম্পদ নষ্ট করছে। ইতিহাস সাক্ষী, ফেরাউন বা নমরুদের মতো দাম্ভিক শাসকদের পতন নিশ্চিত। ট্রাম্পের ভাগ্যও একই পথে এগোচ্ছে।” খামেনেইর স্পষ্ট বার্তা, ইরানের জনগণ কখনওই বিদেশি শক্তির দালালি মেনে নেবে না। একদিকে ট্রাম্পের রণংদেহি মেজাজ আর অন্যদিকে খামেনেইর অনড় অবস্থান—সব মিলিয়ে ইরান এখন এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি।