সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে বড় আপডেট, কবে থেকে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে বাড়তি টাকা?

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরই সরকারি কর্মচারীদের জন্য খুশির জোয়ার। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাজ্য সরকার একদিকে যেমন ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে, তেমনই সামনে এসেছে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের জোরালো ইঙ্গিত। ষষ্ঠ বেতন কমিশন গঠনের প্রায় ১১ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে নতুন বেতন কমিশন নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ছিল। অবশেষে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হলে সরকারি কর্মীদের মূল বেতনে বড়সড় লাফ দেখা যাবে। বর্তমান বেতন কাঠামো অনুযায়ী, যদি কোনো কর্মীর মূল বেতন ২০ হাজার টাকা হয়, তবে সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হলে তা বেড়ে ৫০ হাজার টাকারও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, কর্মীদের বেতনে প্রায় ২.৫৭ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি ঘটতে পারে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই এই বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এই বেতন বৃদ্ধি কবে থেকে কার্যকর হবে তা নিয়ে সরকারি কর্মীদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সব ঠিকঠাক থাকলে ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে সপ্তম বেতন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হবে। স্বাভাবিক নিয়মেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৭ সালের এপ্রিল মাস থেকে বর্ধিত বেতন সরকারি কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়া শুরু হতে পারে।

বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি মহার্ঘ ভাতার ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা রয়েছে। সরকারি কর্মীদের জন্য ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ২০২৬ সালের অক্টোবর মাস থেকে কার্যকর হবে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ফলে কর্মীদের মূল বেতনে প্রায় ৩৮ শতাংশের মতো বাড়তি সুবিধা যোগ হবে। সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হলে সেই বর্ধিত মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করেই নতুন স্কেল নির্ধারিত হবে, যা কর্মীদের আর্থিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটাবে।

দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মীরা ষষ্ঠ বেতন কমিশনের পর পরবর্তী কমিশনের অপেক্ষায় ছিলেন। নতুন সরকারের এই উদ্যোগ তাঁদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, সরকারের এই ঘোষণা অনুযায়ী কবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় এবং কর্মীরা কবে থেকে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী টাকা হাতে পান। তবে বর্তমানে সরকারি মহলে এই ঘোষণায় আনন্দের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।