সন্ত্রাসবাদীদের আর রেহাই নেই! ‘অপারেশন সিঁদুর’ ও সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে রাষ্ট্রপতির চরম হুঙ্কারে কাঁপছে শত্রুদেশ

ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে এক অত্যন্ত তেজস্বী ও দূরদর্শী ভাষণ দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। দেশের আধুনিক অগ্রগতি, প্রতিরক্ষায় ভারতীয় সেনার বীরত্ব থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর এই ভাষণে উঠে এসেছে সর্দার প্যাটেলের ঐক্যবদ্ধ ভারতের স্বপ্ন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিককালের একাধিক চাঞ্চল্যকর সামরিক ও অর্থনৈতিক সাফল্যের চিত্র।
ভাষণের শুরুতেই দেশবাসীকে স্বাধীনতা দিবসের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার পর দেশ গড়ার যে চ্যালেঞ্জ ছিল, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ছিলেন সেই অখণ্ড ভারতের মূল স্থপতি। আর আজ সেই পথ ধরেই দেশের ছাত্রছাত্রীরা নব্য ভারতের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছে।
‘অপারেশন সিঁদুর’ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা: এদিনের ভাষণে রাষ্ট্রপতি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরাক্রমশালী ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর কথা। তিনি জানান, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নিখুঁত ও ধ্বংসাত্মক আঘাত হানার ক্ষেত্রে এই অপারেশন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মুন্সিয়ানার অনন্য নিদর্শন। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদকে মদত জোগানো দেশের সঙ্গে ‘সিন্ধু জল চুক্তি’ স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে দেশের জাতীয় স্বার্থে এবং কৃষকদের সুরক্ষায় এক অত্যন্ত যুগান্তকারী ও নির্ণায়ক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
সন্ত্রাসবাদীদের চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে রাষ্ট্রপতি সাফ জানান, সন্ত্রাসী ও তাদের মদতদাতারা যতই লুকিয়ে থাকুক না কেন, তাদের নির্মম পরিণতির মুখোমুখি হতেই হবে। এছাড়া দেশের একটা বড় অংশকে নকশালমুক্ত করাকে এক বিরাট জাতীয় অর্জন বলে উল্লেখ করে বস্তার অঞ্চলের দ্রুত উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির প্রশংসাও করেন তিনি।
অর্থনীতি ও ডিজিটাল বিপ্লবের জয়গান: বিশ্বজুড়ে নানাবিধ অর্থনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারতের আর্থিক প্রবৃদ্ধির হার বিশ্ব গড়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার অন্যতম বড় নিদর্শন হলো—বিশ্বের মোট রিয়েল-টাইম ডিজিটাল লেনদেনের অর্ধেকেরও বেশি এখন একমাত্র ভারতেই সম্পন্ন হয়।
পাশাপাশি বিগত এক দশকের জনমুখী নীতির জেরে দেশের ২৫ কোটিরও বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৮০ কোটি ভারতবাসীকে বিনামূল্যে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে সরকার। ভাষণের শেষ পর্যায়ে দেশের তিন সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ কর্মী এবং দেশের নাম বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল করা সকল প্রবাসীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জ্ঞাপন করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।