সন্তান জন্ম দিতে না পারায় গৃহবধূকে ধর্ষণ শ্বশুর ও ননদের স্বামীর, নীরব স্বামী! গুজরাটে চাঞ্চল্যকর

গুজরাটের ভাদোদরায় এক ভয়াবহ ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই এক গৃহবধূকে তাঁর শ্বশুর এবং ননদের স্বামী একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, তাঁর স্বামী সবকিছু জেনেও মুখ বন্ধ রাখার জন্য হুমকি দিয়েছেন।
বিয়ের পর নির্যাতন: গত ফেব্রুয়ারি মাসে ৪০ বছর বয়সী ওই নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পরই তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন সন্তানের জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। চিকিৎসকরা জানান, তাঁর স্বামীর শুক্রাণুর সংখ্যা কম। এর পর তাঁরা আইভিএফ পদ্ধতির সাহায্য নিলেও ব্যর্থ হন। গৃহবধূ একটি সন্তান দত্তক নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও পরিবারের কেউ তা মানেননি।
শারীরিক নির্যাতন: অভিযোগ, জুলাই ২০২৪-এ শ্বশুর গভীর রাতে তাঁর ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করেন। চিৎকার করলে মারধরও করা হয়। যখন তিনি স্বামীকে সবকিছু জানান, তখন স্বামী উল্টো তাঁকে ভয় দেখান যে, মুখ খুললে তাঁর ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস করে দেওয়া হবে।
গণধর্ষণের অভিযোগ: পরে বারবার তাঁর শ্বশুর তাঁকে ধর্ষণ করেন। ডিসেম্বর মাস থেকে ননদের স্বামীও তাঁকে ধর্ষণ করা শুরু করেন। এই ভয়ংকর নির্যাতনের ফলে একসময় গৃহবধূ গর্ভবতী হলেও জুনে তাঁর গর্ভপাত হয়ে যায়।
অবশেষে গত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে ওই গৃহবধূ সাহস করে পুলিশের কাছে যান। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ এই ঘটনায় একটি এফআইআর দায়ের করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নির্যাতিতার পরিচয় গোপন রাখা হবে। পুলিশ অভিযুক্তদের খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে।
কলকাতার নারকেলডাঙা থানা এলাকাতেও এই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেখানেও এক নববধূ অভিযোগ করেছিলেন যে, বিয়ের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই তাঁর শ্বশুর তাঁকে বারবার ধর্ষণ করেছেন। সেখানেও স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা মুখ বন্ধ রাখার জন্য তাঁকে হুমকি দিয়েছিল। পরে ওই নববধূ একজন আত্মীয়কে সব জানালে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করে।
এই ধরনের ঘটনা সমাজে নারীর নিরাপত্তা এবং পারিবারিক নির্যাতনের ভয়াবহ দিকটি তুলে ধরছে।