আজ সারা বাংলা মেতে উঠেছে মহাশক্তির আরাধনায়। কালীপূজার (Kali Puja) এই শুভ দিনে সতীপীঠ থেকে সিদ্ধপীঠ—সর্বত্রই সাড়ম্বরে পূজিতা হবেন মা। জগতে কল্যাণ এবং শান্তি স্থাপনের জন্য ভক্তরা দেবীর আরাধনা করেন। দেবী কালীকে মনে করা হয় অসুখ বিনাশিনী এবং অশুভ শক্তির বিনাশকারী।
দেবী সৃষ্টির কারণ ও দেবীর রূপ:
শাস্ত্র মতে, মহা শক্তিধর অসুর শুম্ভ-নিশুম্ভের হাত থেকে ত্রিলোককে রক্ষা করতেই দেবী কালীর সৃষ্টি। দেবীর উগ্র রণচণ্ডী রূপের মধ্যে লুকিয়ে আছে গভীর দার্শনিক তাৎপর্য।
নরমুণ্ডের মালা: দেবীর কণ্ঠের শোভা হলো নরমুণ্ডই অলঙ্কার। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মালা হলো যুদ্ধে পরাজিত সেনাপতিদের মুণ্ডের মালা। এটি আসলে ৫০টি মুণ্ডের প্রতীক, যা মানব জীবনের জ্ঞানের প্রতীক হিসাবে বিবেচিত হয়।
করতল: দেবী তাঁর কোমরে মৃত সেনাপতিদের হাতের পাতা ধারণ করেন। শাস্ত্রমতে, এই করতলও জ্ঞানের প্রতীক।
মুণ্ড ও চুল: যে সেনাপতি দেবী কালীকে চুল ধরে অপমান করেছিল, সেই সেনাপতির মুণ্ড দেবী তাঁর হাতে ধরে থাকেন।
লজ্জিতা দেবী: রণক্ষেত্রে উন্মত্ত অবস্থায় মা কালী যখন ভুল করে তাঁর স্বামী মহাদেবের গায়ে পা তুলে ফেলেন, তখনই তাঁর রণে উন্মত্ততা কেটে যায় এবং তিনি লজ্জিতা হন। দেবীর এই লজ্জিতা রূপই তাঁর সংহারক রূপের ইতি টানে।
আজকের এই শুভ দিনে রাজ্যজুড়ে শক্তি ও কল্যাণের আরাধনায় মেতে উঠেছেন অগণিত ভক্ত।