সতর্কবার্তা উপেক্ষা! মদ্যপ অবস্থায় পাথরে বসতেই ঢেউয়ের কবলে কর্ণাটকের যুবক, গোয়ায় মর্মান্তিক পরিণতি

গোয়ার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বাগা বিচে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন কর্নাটকের এক পর্যটক। মৃত যুবকের নাম আশপাক মাসালি (৩৪), যিনি কর্নাটকের বিজাপুর জেলার বাসিন্দা ছিলেন। বন্ধুদের সঙ্গে গোয়ায় বেড়াতে এসে সমুদ্রের বিশাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে অকালে প্রাণ হারালেন তিনি। এই ঘটনায় পর্যটন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বন্ধুদের সঙ্গে বাগা বিচে গিয়েছিলেন আশপাক। স্থানীয় প্রশাসন ও লাইফগার্ডদের বারবার সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও তিনি সমুদ্রের ধারে অবস্থিত পিচ্ছিল পাথরের ওপর গিয়ে বসেন। অভিযোগ, দুর্ঘটনার ঠিক আগে তিনি মদ্যপান করেছিলেন। বন্ধুদের বারণ সত্ত্বেও তিনি পাথরের ওপর থেকে নামতে অস্বীকার করেন। সেই সময় তাঁর এক বন্ধু মোবাইলে সেই মুহূর্তটি ভিডিও করছিলেন। ভিডিওটিতে স্পষ্ট দেখা যায়, হঠাৎই সমুদ্রের একটি বিশালাকার ঢেউ আছড়ে পড়ে এবং মুহূর্তে ওই যুবককে পাথর থেকে ছিটকে সমুদ্রে টেনে নিয়ে যায়। চোখের নিমেষে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনাটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনার পরপরই দমকল, লাইফগার্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীরা দ্রুত উদ্ধারকার্যে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় সমুদ্রতীর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য দেহটি পাঠানো হয়েছে, তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত যে, ওই যুবক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।

বর্ষাকালে গোয়ার সমুদ্র কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে, এই ঘটনা তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্ষার সময় সমুদ্রের স্রোত অত্যন্ত শক্তিশালী থাকে এবং ঢেউয়ের উচ্চতা ও তীব্রতা সাধারণ সময়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি হয়। সমুদ্রতীরের পাথরগুলি শ্যাওলা জমে অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে যায়, ফলে সামান্য অসাবধানতাই প্রাণঘাতী হতে পারে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গোয়া পুলিশ এবং সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা ‘ড্রিশ্টি মেরিন’ (Drishti Marine) নতুন করে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। বর্ষাকালে সমুদ্রে নামা, জলক্রীড়ায় অংশ নেওয়া কিংবা সমুদ্রতীরের পাথরের ওপর ওঠা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশাসনের স্পষ্ট বক্তব্য, একটি মাত্র অপ্রত্যাশিত ঢেউ প্রাণ কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। অ্যাডভেঞ্চার বা ছবি তোলার নেশায় নিরাপত্তা বিধি অমান্য করার প্রবণতাই যে এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মূল কারণ, তা বারবার উঠে আসছে বিভিন্ন মহলে। নেটিজেনরাও এখন পর্যটকদের সমুদ্র সৈকতে আরও সতর্ক থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলার আর্জি জানিয়েছেন।