“সচিবের এত দুঃসাহস কী করে হয়!” টলিপাড়ার বিবাদ মামলায় ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট

টলিউডের স্টুডিও পাড়ায় চলা গোলমাল নিয়ে দায়ের হওয়া একটি মামলায় রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি সচিবের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে সচিবের কাজ করার অভিযোগ ওঠায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে আদালত।

কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে টলিউডের একাধিক পরিচালক হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন। গত ৮ জুলাই রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আইনজীবী আদালতকে জানিয়েছিলেন যে, ৭ জুলাই একটি বৈঠকের নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং ১৬ জুলাই সচিবের নেতৃত্বে সেই বৈঠক হবে। আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ওই বৈঠকে মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে ডেকে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে হবে।

কিন্তু হাইকোর্টের সেই নির্দেশ যথাযথভাবে মানা হয়নি। ১৬ জুলাই রবীন্দ্র সদনে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব শান্তনু বসুর ডাকা বৈঠকে ১১ জন পরিচালক উপস্থিত থাকলেও, সেখানে ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন না। কেন এক পক্ষ অনুপস্থিত ছিলেন এবং কেন বৈঠকের সব শর্ত মানা হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি সিনহা।

রাজ্যের কৌঁসুলি অনিন্দ্য মিত্রকে বিচারপতি অমৃতা সিনহা এদিন বলেন, “কে ওঁকে আলাদা করে বৈঠক করতে বলেছে?” গত ৮ জুলাই একটি নোটিস দিয়ে রাজ্য জানিয়েছিল যে সবাইকে একসঙ্গে ডেকে বৈঠক করা হবে। সেখানে কী করে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব একজনকে আলাদা করে ডাকলেন, সেই প্রশ্ন তুলে আদালত তার বিস্ময় প্রকাশ করেছে।

বিচারপতি সিনহা আরও বলেন, “এখানে এর পিছনে কিছু একটা আছে। কিছু একটা চলছে। কিছু বিষয় লুকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সচিবের ভূমিকা কিন্তু অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “কিছু চাপা দিতে একজন সিনিয়র আইনজীবীকে এনে ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি জানি কী চলছে। আমার মুখ খোলাবেন না। সচিব যা নোটিস দিয়েছেন এবং কোর্টকে যা বলেছেন, তার উল্টো কাজ করেছেন। সেই কারণেই আপনাকে দাঁড় করানো হয়েছে।”
আদালত জানিয়েছে, আগামী ৩০ জুলাই সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করতে হবে। এরপর আগামী ৮ আগস্ট হাইকোর্টে এই বৈঠকের রিপোর্ট জমা দিতে হবে তথ্য ও সংস্কৃতি সচিবকে। সচিবের উপর ক্ষুব্ধ আদালতের এই নির্দেশ নতুন করে টলিপাড়ার বিবাদকে সামনে নিয়ে এসেছে।