“সকালে তৃণমূলে, রাতে ফের বিজেপিতে “-পঞ্চায়েত সদস্যর কাণ্ডে অস্বস্তিতে দুই শিবির

একই দিনে সকালে তৃণমূলে যোগদান, আর বিকেলে মনবদল করে রাতে ফের বিজেপিতে প্রত্যাবর্তন। বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকের চিঙ্গানি গ্রামে বুধবার এমনই এক রাজনৈতিক ‘মহানাটক’ দেখল বাংলা। এই ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল।

ঘটনার সূত্রপাত হয় চিঙ্গানি গ্রাম পঞ্চায়েতে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ১৩টি আসনের মধ্যে সাতটি জিতে বোর্ড গঠন করেছিল বিজেপি। এই বোর্ড নিজেদের দখলে আনতে মরিয়া ছিল তৃণমূল। বুধবার দুপুরে বিজেপির দুই পঞ্চায়েত সদস্য গণেশ মল্ল এবং তারাপদ পাল তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।

গণেশের দাবি, ‘ভুল বুঝিয়ে যোগদান করানো হয়েছে’
তৃণমূলে যোগদানের পর এই দুই সদস্য গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ করেন। এতেই তৃণমূলের জয় নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঘণ্টা কয়েক পরেই চমক আসে। গণেশ মল্ল ফের ওন্দার রামসাগর এলাকায় বিজেপির কার্যালয়ে ফিরে আসেন। তাঁর দাবি, তাকে ‘ভুল বুঝিয়ে’, ‘টাকা এবং চাকরি দেওয়ার নাম করে’ তৃণমূলে যোগদান করানো হয়েছিল।

বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি কল্যাণ চট্টোপাধ্যায় এই ঘটনায় তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলেন, “টাকার টোপ দেখিয়ে দল ভাঙানোই তৃণমূলের সংস্কৃতি।”

অন্যদিকে, তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুব্রত দত্ত এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কাউকে জোর করে যোগদান করানো হয়নি।” তিনি জানান, বর্তমানে চিঙ্গানি গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল এবং বিজেপি— উভয় দলেরই ৬টি করে আসন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চলেছি। অনাস্থার দিনই সবটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, গণেশ মল্লর এই রাতারাতি দলবদল আগামী দিনে ওই পঞ্চায়েত এলাকায় এক নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দেবে।