রাজনীতির মঞ্চে বোমা ফাটালেন কমলা হ্যারিস! বাইডেনের বিরুদ্ধে আনলেন গুরুতর অভিযোগ

প্রাক্তন মার্কিন উপ-রাষ্ট্রপতি কমলা হ্যারিসের আসন্ন স্মৃতিকথা আমেরিকার রাজনীতিতে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করতে চলেছে। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে তিনি এই প্রথম প্রকাশ্যে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালে দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বাইডেনের সিদ্ধান্ত ছিল ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে নেওয়া, দেশ বা দলের স্বার্থে নয়।

“এটা জো আর জিলের সিদ্ধান্ত”
দ্য আটলান্টিক-এ প্রকাশিত বইটির অংশে হ্যারিস লিখেছেন, ডেমোক্র্যাট দলের মধ্যে যেন একটি মন্ত্র প্রচলিত ছিল, “এটা জো আর জিলের সিদ্ধান্ত”। তার কথায়, “আমরা সবাই যেন সম্মোহিত হয়ে এই কথাটি বলতাম। তখন মনে হয়েছিল এটি সৌজন্য, কিন্তু এখন ফিরে তাকালে স্পষ্ট, এটি ছিল একটি বেপরোয়া সিদ্ধান্ত।”

হ্যারিস আরও দাবি করেন যে, উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার পক্ষে বাইডেনকে এই সিদ্ধান্ত থেকে নিরুৎসাহিত করা অসম্ভব ছিল। কারণ, সেটি ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা বিশ্বাসঘাতকতা বলে মনে হতে পারত। অথচ মূল বার্তাটি ছিল শুধু একটাই— ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিরতে দেওয়া যাবে না।

হোয়াইট হাউসের অন্দরের দ্বন্দ্ব
‘১০৭ ডেজ’ নামের এই স্মৃতিকথায় হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরের দ্বন্দ্বের কথাও উঠে এসেছে। হ্যারিসের অভিযোগ, বাইডেনের ঘনিষ্ঠ পরামর্শদাতারা তাকে ইচ্ছে করেই আড়ালে রেখেছিলেন এবং তার সাফল্যকে সামনে আনতে চাননি। হ্যারিসের মতে, তাদের ভাবনা ছিল, “আমি যদি আলোয় আসি, তাহলে বাইডেন ম্লান হয়ে যাবেন।” কিন্তু যেহেতু বাইডেনের বয়স নিয়ে প্রশ্ন ছিল, তার সাফল্যই হতে পারত বাইডেনের বিচক্ষণতা ও দেশের জন্য আস্থার প্রমাণ।

তবে হ্যারিস বাইডেনের সক্ষমতা নিয়ে কোনো বড় অভিযোগ করেননি। তিনি স্বীকার করেছেন, “জো ছিলেন বুদ্ধিমান, অভিজ্ঞ এবং নীতিগতভাবে দৃঢ়। কিন্তু ৮১ বছর বয়সে ক্লান্তি তাকে ছাপিয়ে যেত এবং তখনই তার বয়স ধরা পড়ত।”

বিতর্কিত টেলিভিশন বিতর্কের পর অবশেষে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাইডেন পুনর্নির্বাচনের দৌড় থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর মাত্র ১০৭ দিনের মধ্যে জাতীয় প্রচার চালিয়ে হ্যারিস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হন, যদিও নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হন। বর্তমানে রাজনীতির মঞ্চে অপেক্ষাকৃত নীরব থাকা হ্যারিসের এই স্মৃতিকথা যে ডেমোক্র্যাট দলের মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে, তা নিশ্চিত।