সকালে ঘুম ভাঙতেই সারা শরীরে তীব্র ব্যথা? অজান্তেই এই ভুলগুলো করছেন না তো!

ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে ব্যথা অনুভব করা বর্তমানে অনেকের কাছেই একটি অত্যন্ত সাধারণ ও নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে নিছক দৈনন্দিন ক্লান্তি বা বয়সজনিত সামান্য লক্ষণ বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এর নেপথ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে গভীর কোনও স্বাস্থ্যগত সমস্যা কিংবা দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মারাত্মক কিছু ত্রুটি। রাতে পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোর পরেও যদি সকালে শরীর ভারী, আড়ষ্ট বা প্রচণ্ড ব্যথাতুর মনে হয়, তবে তা অবিলম্বে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সকালে ঘুম ভাঙার পর শরীর ব্যথার পেছনে প্রধানত বেশ কিছু কারণ দায়ী থাকে। প্রথমত, ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানো। ঘুমের সময় শরীরের অবস্থান ভুল হলে পেশি ও জয়েন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ঘাড়, পিঠ বা কাঁধ সঠিক অবস্থানে না থাকলে সকালে উঠে আড়ষ্টতা অনুভূত হয়। দ্বিতীয়ত, নিম্নমানের ম্যাট্রেস বা বালিশ ব্যবহার। অতিরিক্ত নরম বা অতিরিক্ত শক্ত বিছানা শরীরকে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিতে পারে না। একইভাবে ভুল মাপের বালিশ মেরুদণ্ডে টান সৃষ্টি করে।

তৃতীয়ত, শরীরে জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের সমস্যা। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান না করলে পেশিতে টান ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। চতুর্থত, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের ঘাটতি। শরীরে ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের অভাব পেশিকে দুর্বল করে তোলে, যার ফলে সামান্য বিশ্রামের পরেও সারা শরীরে ব্যথা অনুভূত হয়। পঞ্চমত, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং অপর্যাপ্ত ঘুম। ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে পেশিগুলো পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ পায় না।

ষষ্ঠত, সারাদিন শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বা হালকা ব্যায়ামের অভাব। সারাদিন অলস কাটালে পেশিগুলো আড়ষ্ট হয়ে পড়ে। পরিশেষে, এগুলি ছাড়াও নিয়মিত মর্নিং পেন বা সকালের শরীর ব্যথা ফাইব্রোমায়ালজিয়া, আর্থ্রাইটিস বা থাইরয়েডের মতো জটিল রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। যদি এই ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, তবে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।