সংহতি দিবসে বাবরি মসজিদ শিলান্যাস, “ধর্মের মোড়কে রাজনৈতিক অঙ্ক”, হুমায়ুনকে কড়া হুঁশিয়ারি তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাকে সামনে রেখে যখন রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস প্রতি বছর দিনটিকে ‘সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে, ঠিক তখনই মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় তার ঠিক উল্টো স্রোত বইছে। সেখানে সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ূন কবীর তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে এদিনই বাবরি মসজিদের শিলান্যাস কর্মসূচি পালন করছেন। এই পরিস্থিতিতে দুই সমান্তরাল স্রোতের বিরোধ রুখতে আসরে নামলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ

শনিবার সকালে এক ভিডিও বার্তায় কুণাল ঘোষ সরাসরি হুমায়ূন কবীরের নাম উচ্চারণ না করেও কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন, বাংলায় বা তৃণমূল কংগ্রেসে ব্যক্তিগত উদ্যোগে উপাসনালয় তৈরির ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে কেউ মন্দির, মসজিদ বা গির্জা নির্মাণ করতেই পারেন এবং এই কারণে কাউকে দল থেকে বহিষ্কার করার ইতিহাস বা প্রবণতা তৃণমূলে নেই।

তাহলে কেন কঠোর পদক্ষেপ?

কুণাল ঘোষের অভিযোগ, দল কেন হুমায়ুনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিল, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন: “যদি কোনও ব্যক্তি অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের চক্রান্তের ফাঁদে পা দেন এবং প্ররোচিত হয়ে ধর্মের মোড়কে আসলে রাজনৈতিক অঙ্ক কষতে শুরু করেন, তবে দল তা মেনে নেবে না।”

তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা যখন ধর্মীয় ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে ‘বিষাক্ত মেরুকরণের মায়াজাল’ তৈরি করতে চাইছে, তখন দলেরই কোনও সদস্য যদি সেই ফাঁদে পা দিয়ে কোনও ধর্মীয় কর্মসূচিকে ‘পলিটিক্যাল ইভেন্ট’-এ পরিণত করেন, তবে তা আসলে দলবিরোধী কাজ। কুণাল বলেন, ভোটের রাজনীতির স্বার্থে ধর্মকে ঢাল করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়াই স্বাভাবিক।

‘৬ ডিসেম্বরকে বেছে নিলেন কেন?’

কুণাল ঘোষ তাঁর বক্তব্যের স্বপক্ষে গীতাপাঠের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আমরা গীতাকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু যখন গীতা পাঠকে রাজনৈতিক মার্কেটিং হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন আমরা সেই ইভেন্টটের বিরোধিতা করি, গীতার নয়।”

ঠিক একই যুক্তি দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, কেউ মসজিদ গড়তেই পারেন, কিন্তু ৬ ডিসেম্বরকে বেছে নিয়ে বিরোধীদের রাজনৈতিক এজেন্ডাকে পুষ্ট করতে যদি কেউ মসজিদের শিলান্যাস করেন, তবে তা আর ধর্মীয় থাকে না, তা একান্তই রাজনৈতিক অভিসন্ধিমূলক

হুমায়ূন কবীর এবং তাঁর অনুগামীরা যে প্রচার করছেন, মসজিদ তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কারণেই তাঁকে দল থেকে তাড়ানো হয়েছে, সেই দাবিকে কুণাল ঘোষ ‘ডাহা মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন, “আসলে তিনি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন এবং বিরোধীদের খেলার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন বলেই দল ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy